কলকাতাঃ  নজিরবিহীন নির্দেশে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হল স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে। আর এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ”এটা আদতে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের নির্দেশ। এটা অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র বাংলাকে অপমান করার জন্যেই মোদীর নির্দেশে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

তবে বাংলার মানুষ এমন অপমান মেনে নেবেন না বলেই মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তা থেকে নজর ঘোরাতে এমন সিদ্ধান্ত।

শুধু তাই নয়, মমতার কথায়,নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বাহিনীকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে নির্বাচন করাচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথম থেকে এটা বলে আসছি। সকালে অমিত শাহ সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনকে থ্রেট করেছিলেন, এটা তারই ফল। ইচ্ছেমতো অর্ডার দেবে। এক্ষেত্রে নির্মলা সীতারমণের একটি বক্তব্যকে হাতিয়ার করেন মমতা। তিনি বলেন, নির্মলা সীতারমন বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার বন্ধ করা হোক। এরপরেই রাতারাতি নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে সুর চড়ান মমতা।

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন নেত্রী। তাঁর কথায়,”কাল অমিত শাহ এলেন, নিজে গন্ডগোল করলেন, হামলা করালেন। শুধু হামলাই করেননি। যে বিদ্যাসাগরের লেখা অ, আ, ক, খ শিখি। সেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর মোদীবাবু বাংলায় এসে কোনও দুঃখপ্রকাশ করেননি। এটা আশাও করি না। বাংলার মনিষীদের অপমান করেছে”। নির্বাচন কমিশনের একের পর এক সিদ্ধান্তের পিছনে ভয়ঙ্কর রাজনীতি রয়েছে বলেও মনে করেন মমতা। তাঁর কথায়,”মোদী জানে আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করছি। মোদী আমাকে ভয় পাচ্ছে। আমার কন্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে আমাকে কেউ দমাতে পারবে না বলে মন্তব্য মমতার।