কলকাতাঃ  প্রায় চারদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত আন্দোলনের পথেই ডাক্তাররা। এই অবস্থায় কার্যত ভেঙে পড়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা। এর মধ্যে গণহারে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন ডাক্তারা। ভয়ঙ্কর হচ্ছে পরিস্থিতি। যদিও এই জট কাটাতে আজ শনিবার নবান্নে আন্দোলনকারী ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নতুন করে জট খোলার ক্ষেত্রে আশার আলো জাগছিল।

একদিকে যখন জট খোলার বিষয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন সবাই সেই সময় আহত পরিবহকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যায় দুপুরেই ইনস্টিটিউট এফ নিউরোসায়েন্সে যাবেন। কথা বলবেন গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি পরিবহের সঙ্গে।

এই খবর ছড়িয়ে যাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে শুরু হয়ে যায় পুলিশি তৎপরতা। পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় ওই হাসপাতাল চত্বরে। জানা যায়, পৌনে দুটো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর বেরনোর কথা ছিল কালীঘাটের বাড়ি থেকে। আর সেখান থেকেই মল্লিকবাজারের নিউরোসাইন্সে যাওয়ার কথা ছিল মমতার। এমনটাই খবর আসে পুলিশের কাছে। যখন মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে নিউরোসাইন্সে যাবেন বলে শোনা যাচ্ছিল তখন এনআরএসে চলছিল জুনিয়র চিকিৎসকদের জিবি বৈঠক। কিন্তু বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, নবান্নে গিয়ে তাঁদের কোনও প্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না। এর পরেই জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী সোজা নবান্নেই যাবেন। তার আগেই নবান্নে ডেকে পাঠানো হয় স্বাস্থ্যসচিব রাজীব সিংহকে। হঠাত এভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়াতেই রাজনৈতিকমহলে শুরু হয়েছে নানারকম জল্পনা।

রাজনৈতিকমহলের মতে, আন্দোলনকারীদের একাধিক দাবির মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আহত পরিবহের সঙ্গে দেখা করতে হবে। বৈঠকের আগে সেই দাবি মেনে পরিবহকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত বৈঠকের আগে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার তাঁর এই সিদ্ধান্তে যাতে আন্দোলনকারীরা নবান্নে এসে দেখা করে সেটাও চেষ্টা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে নিজেও মত বদলান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।