স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৭১ জন নিজামউদ্দিন মসজিদের সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ৭১ জনের মধ্যে ৫৪ জনকে ইতিমধ্যেই কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ৫৪ জনের মধ্যে ৪০ জনই বিদেশি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনেক পরে জানতে পেরেছি। আগে থেকে জানলে সেইমত ব্যবস্থা নিতাম। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের জানিয়েছে, এরাজ্যের ৭১ জন আছে। আমরা ক্রস চেক করে অলরেডি ৫৪জনকে কোয়ারান্টাইনে পাঠিয়ে দিয়েছি। এদের মধ্যে ৪০ জন বিদেশি।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার লোক রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “ভয় পাবেন না। নিজামুদ্দিনে যারা গিয়েছিলেন তাঁরা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই টুইট করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা (দিল্লির তবলিঘি জামাত) এই জমায়েতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করানো হবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাঁদের আবশ্যিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। নিজামুদ্দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন লালবাজারে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে পুলিশ কমিশনার-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকেই নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর ভবানী ভবনেও যান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে একটি ধর্মীয় জমায়েত উপলক্ষে জড়ো হওয়া মানুষজনের মধ্যে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত ছিলেন অন্তত ২০০ জন।

মঙ্গলবার দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আরও ৩৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই সম্মেলনের জেরেই দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ওই জমায়েত থেকে তেলেঙ্গানায় ফেরা ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে আরও এক জনের। আন্দামান নিকোবরে ফিরে যাওয়া ১০ জনের করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

এর মধ্যেই সোমবার দিল্লির লোকনায়ক হাসপাতালে ভর্তি ১০২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নিজামউদ্দিন মসজিদ থেকে এনে রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালেও অনেককে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্ট এখনও আসেনি। সেই রিপোর্ট এলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। অন্য দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেও ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর মিলেছে।

তাবলিগ-ই-জামাতের ওই জমায়েতে এদেশের লোক ছাড়াও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরগিজস্তান এবং সৌদি আরব থেকে মানুষ এসে যোগ দেন। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স এবং কুয়েত থেকেও সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন।

লকডাউন এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে জারি হওয়া নির্দেশিকা অমান্য করে নিজামউদ্দিন মসজিদে ছিলেন প্রায় দু’হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে বহু বিদেশিও ছিলেন। ওই জামাতের উদ্যোক্তা এবং মসজিদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। সেই মতো মঙ্গলবারই মূল অভিযুক্ত মওলানা সাদ-সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মহামারি আইনে মামলা রুজু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব।

কিন্তু তার পর থেকে আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ওই জমায়েতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকশো জনের করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছলেন, তাঁদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে। ফলে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সরকার তথা রাজ্য প্রশাসনগুলির।সব রাজ্যকে আলাদা করে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্র।