কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা’র জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার দিল্লিগামী বিমানে ধরার আগে বিমানবন্দরে মমতা এমনটাই দাবি করেছেন। রাজ্যের নাম বদলের ব্যাপারে এবং পাওনা চাইতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তদ্বির করতে যাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করলেও নানা মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ৷

প্রায় আড়াই বছর পরে মমতা নরেন্দ্র মোদীর মুখোমুখি হবেন বুধবার বিকেলে ৷ সেই উদ্দেশ্যে তিনি মঙ্গলবার দিল্লি রওনা হওয়ার আগে বলেন ‘‘দীর্ঘদিন দিল্লি যাওয়া হয়নি। যাচ্ছি রাজ্যের ব্যাপারে, কিছু টাকা পাওনা আছে। তা ছাড়া পিএসইউ ব্যাংক থেকে শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া, রেল, বিএসএনএল— অনেক সমস্যা রয়েছে। সুযোগ পেলে ওদের কথা বলতে পারব। রাজ্যের নাম বদলের ব্যাপারটাও আছে।’’

কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে কেন আগের বৈঠকগুলিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও তিনি গেলেন না কেন? তিনি তখন জানিয়েছেন,বৈঠকের আগে কোনও কিছু নিয়েই জল্পনা তৈরি করা উচিত হবে না। আর সে কথা বলায় যেন আদপে বৈঠকের অ্যাজেন্ডা নিয়ে ‘জল্পনা’ বেড়েছে।

গত ১৫ জুন নীতি আয়োগের বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেটিই ছিল মোদীর প্রথম নীতি আয়োগের বৈঠক। কিন্তু নীতি আয়োগের ‘কোনও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই’ এই অজুহাত দেখিয়ে মমতা ব্যানার্জি সেই বৈঠক বয়কট করেছিলেন। তাছাড়া আবার চলতি বছরের ১৯ জুন ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন নরেন্দ্র মোদী কিন্তু সেই বৈঠকও মমতা ব্যানার্জি বয়কট করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক নিখাদ সৌজন্যমূলক বলেই দাবি করেছেন মমতা। কিন্তু সারদা-কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিতে সিবিআই তৎপরতা তুঙ্গে অথচ রাজীবের কোনও হদিশ নেই ৷ এই পরিস্থিতিতে মোদী -মমতা বৈঠকের পিছনে রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ যথেষ্ঠ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্নমহল।

সিবিআই রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করলে তৃণমূল কংগ্রেসের তাবড় নেতাদের অনেকেই সিবিআই’র জালে ধরা পড়ে পারেন৷ সেক্ষেত্রে এমন কি মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যেতে পারেন বলে অভিযোগ।কারণ গত ফেব্রুযারি মাসে এই রাজীবকে সিবিআই ধরতে গেলে তিনি ধর্নায় বসেছিলেন৷ ফলে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধী নানা ভাবে কটাক্ষ শুরু করেছে৷

তবে ২০১৮’র ২৫ মে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে এক মঞ্চে মোদী মমতা হাজির থাকলেও সেখানে তাদের বিশেষ কিছু কথা হয়নি। বরং তাঁদের সর্বশেষ বৈঠক হয় ২০১৭’র ১০ এপ্রিল। সেটাও একন্তে নয়াদিল্লিতে হয়েছিল। আর সেই বৈঠকের দু’দিন আগে নারদ স্টিং অপারেশনকাণ্ডের জন্য সিবিআই ম্যাথু স্যামুয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ৷ নারদ স্টিং অপারেশন বেশ কিছু তৃণূল নেতাদের হাত পেতে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল৷

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।