সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান): মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভা বর্ধমানে। সোমবার হতে চলা সেই সভায় স্থানীয় সাংসদ তথা হেভিওয়েট বিজেপি নেতা সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই ঘটনায় অসৌজন্যের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে বর্ধমানে প্রস্তুতি তুঙ্গে।

সোমবার শহরের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে হবে প্রশাসনিক সভা। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় আড়াই কোটি টাকার মোট ৪০টি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং ৪০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক সভায় থাকছেন বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুনীল মণ্ডল। এদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে ক্ষুব্ধ বর্ধমান-দুর্গাপুরের বিজেপি সাংসদ আলুওয়ালিয়া। তিনি জানিয়েছেন, যখন দার্জিলিঙের সাংসদ ছিলাম, তখনও কোনও সরকারি কর্মসূচিতে ডাকা হয়নি।

সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে আলুওয়ালিয়া তৃণমূলের প্রার্থীকে পরাজিত করেন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন কেন্দ্রে যে সব বাম, কংগ্রেস বিধায়করা জয়ী হন, তাঁদের কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়না। সাংসদ আলুওয়ালিয়ার অভিযোগ, আসলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শিষ্টাচারই জানেন না। তিনি হিটলারি কায়দায় সরকার চালান। সরকারি নিয়ম আছে কোনও পঞ্চায়েত এলাকায় একটি কল বসাতে গেলেও সেখানকার নির্বাচিত প্রতিনিধিকে তা জানাতে হয়। অথচ জেলার প্রশাসনিক বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাংসদরেই কোনও আমন্ত্রণ নেই।

আলুওয়ালিয়া জানিয়েছেন, সাংসদ কোটায় উন্নয়নের কাজও করবেন। অথচ তাঁকেই জানানো হল না আমন্ত্রণ। এটা সাংসদ হিসাবে তাঁর লজ্জা নয়। মুখ্যমন্ত্রীর লজ্জা পাওয়া উচিত। আসলে উনি কোনও নিয়মই মানেন না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের সাব ষ্টেশন, সেতু, কৃষি ভবন, ভাতারের নবনির্মিত স্টেডিয়াম, বর্ধমান ১ ব্লকে ২টি মিনি স্টেডিয়াম সহ বেশ কয়েকটি জল প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও যে ৪০টি প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তার মধ্যে রয়েছে গুদামঘর, রাস্তা সংস্কার, পুকুর খনন, বাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে বর্ধমান শহরজুড়ে সাজ সাজ রব। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হয়েছে। জিটি রোডের ডিভাইডারে টাঙ্গানো হয়েছে হোর্ডিং, ফ্লেক্স।

সোমবার সড়কপথে মুখ্যমন্ত্রী ২টো থেকে ৩টের মধ্যে বর্ধমানে আসবেন। শহরের সেচ বাংলোয় দুপুরের আহার করে তিনি সংস্কৃতি লোকমঞ্চে প্রশাসনিক সভা করবেন। সোমবার তিনি বর্ধমানেই রাত কাটাবেন। থাকার কথা সেচ বাংলোতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সেচবাংলো নিরাপত্তার বিশেষ বলয়ে চলে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর খাবারের জন্য আনা হয়েছে ৫ জন রাঁধুনিকে। নিয়ে আসা হয়েছে দুজন টেষ্টার। রয়েছে ৩ টি আধুনিক জেনারেটর। থাকছে ৫ জন চিকিৎসক সহ একটি মেডিকেল টিম।