কাকদ্বীপ: ‘বুলবুল’-এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সরেজমিনে দেখে সোমবার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শনিবার মধ্যরাতেই সুন্দরবন অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল মহা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায় উপকূলবর্তী এলাকায়। কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোসাবা,পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, ঝড়খালি-সহ বিস্তৃত অঞ্চল। সোমবার সেই পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী।

পড়ুন আরও- দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, ভয়াবহ দুর্ঘটনা

এরপরে প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ফসলে বিমা ১০০% করতে হবে। ঝড়ে পাকা ধান এবং পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে।’ খাদ্য দফতর,মৎস্য দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরকে প্রভাবিত এলাকাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানতে সমীক্ষা করার নির্দেশ দেন তিনি। ঝড়ের দাপটে বহু জায়গাতেই বহু মাটির বাড়ি,দোকান ঘর সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের পাকা বাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছিল সরকার। আর এই বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের একশো দিনের প্রকল্প-এ নিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি। স্থানীয় থানার ওসিদের নির্দেশ দেন একশো দিনের প্রকল্পে ওই অঞ্চলের মানুষকে যুক্ত করা যায় সেই ব্যাপারে কাজ শুরু করতে।

পড়ুন আরও- এক ঝটকায় দাম কমছে স্যামসং গ্যালাক্সি এ৫০ এবং এ৩০ ফোনের

মহা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আছড়ে পড়ায় তছনছ হয়ে গিয়েছে দুই ২৪পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তবে প্রাণহানি অনেকটাই রোখা গিয়েছে। ঝড়ের আগে প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষকে বিপর্যয়-মোকাবিলা দফতর যে ভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে আনে তার প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘বিপর্যয়-মোকাবিলা খুব তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে। তাঁদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়েও আমরা প্রাণহানি অনেকটা রুখতে পেরেছি।’

এরপরেই ত্রাণ শিবিরের খতিয়ান চান তিনি। পর্যাপ্ত পরিমানে ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে কি না খোঁজ নেন সে বিষয়েও। ত্রিপল,গরম জামা, শুকনো খাবার পর্যাপ্ত পরিমানে মজুত রাখার কথা বলেন তিনি। ঝড় পরবর্তী সময়ে যাতে ক্ষয়ক্ষতি ঠিক করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, তাই প্রতিটি অঞ্চলে ‘টাস্ক ফোর্স’ তৈরি করে বিভিন্ন দফতরকে একযোগে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।