ঢাকাঃ  পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক পিঙ্ক টেস্ট দেখেন দুজনে। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় আলিপুরের একটি পাঁচতারা হোটেলে বৈঠকে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শেখ হাসিনা। এই বৈঠকে তিস্তা সহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হয়।

তবে বাংলাদেশের বিডি নিউজ ২৪ জানাচ্ছে, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানায় বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে।

যদিও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী (এখানে বিদেশমন্ত্রী) এ কে আব্দুল মোমেন তাদের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করছি। “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশের কোনও ব্যবসায়ী চাইলে পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেল তৈরির কারখানা করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের জমি দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। কোনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ সীমান্তে বাইসাইকেল কারখানা করে পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেল আমদানি করলে তাদের পরিবহন খরচ কম হবে।” বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সমাজকল্যাণ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, শিল্প এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারে।

পুরো ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ এবং পশ্চিমবঙ্গে শতভাগ শিক্ষার্থী বৃত্তির আওতায় রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি শিক্ষার্থীর বৃত্তি পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা মায়েদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতা সফর করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাতে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, ইডেন গার্ডেনসের ঐতিহাসিক পিঙ্ক ম্যাচে উপস্থিত থাকার জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে চলা ঐতিহাসিক ম্যাচে উপস্থিত থাকতে কলকাতায় আসেন তিনি। এই ম্যাচে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও তিনি আসতে পারেননি।