স্টাফ রিপোর্টার, কাকদ্বীপ: আমফান বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু কেন্দ্রের এই আর্থিক অনুদান যথেষ্ট নয় বলে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছেন। এবার এই একই দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে মহকুমাশাসকের দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তিন মাস কোনও রোজগার নেই সরকারের। এক টাকাও পাইনি করোনার জন্য। আমফানের জন্য কেন্দ্র থেকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য এক লাখ কোটি টাকা লাগবে। যতটা পারব করব।”

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে চার ধরনের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে আমাদের। করোনা, লকডাউন, পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এমনিতেই কোভিডের মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের হাতে বেশি টাকা নেই। ফলে বড় কোন প্রজেক্ট হাতে নেওয়া যাবে না।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার হেলিকপ্টারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে নিয়ে দুই ২৪ পরগনার বিপর্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরে বসির‌হাট কলেজে বৈঠক করেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীঘ্রই কেন্দ্রীয় টিম এসে রাজ্যের পরিস্থিতি দেখে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করবে। এর পরে কেন্দ্র অর্থের ব্যবস্থা করবে। আপাতত কেন্দ্র এক হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে রাজ্যকে। আর্থিক অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেভাবে কিছু না বললেও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, “মাত্র এক হাজার কোটি টাকায় কিছুই হবে না। আমফানে বাংলার যা ক্ষতি হয়েছে, তার পর বাংলাকে ফের পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন‌্য আরও কয়েকগুণ অর্থের প্রয়োজন।”

তিনি এও বলেন, “রাজ্যের কী অবস্থা হয়েছে তা তো উনি দেখলেন। তাতে ওঁর কীভাবে মনে হল যে মাত্র এক হাজার কোটি টাকায় সব পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে?” সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীরও দাবি, এই ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার জন্য এক হাজার কোটি টাকা নামমাত্র। আরও অনেক গুণ বেশি সাহায্য প্রয়োজন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এদিন মুখ্যমন্ত্রীও বোঝালেন, তিনিও কেন্দ্রের অনুদানে খুশি নন।এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বারবারই বলেন, এমন দুর্যোগ কোনও দিনও আসেনি রাজ্যে। বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলা।

এদিন বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই পরিস্থিতিতে কোনও রকম অপচয় করা যাবে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আমার হাতে যদি ১০০ কোটি টাকা থাকে তবে আমি একটা রাস্তা বানিয়ে তা খরচ করব না। সেই টাকা দিয়ে ৫০টা রাস্তা তৈরি করব।” একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সামনেই বর্ষাকাল। সুতরাং, রাস্তা এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে বর্ষার সময়ে তা আবার ভেঙে না যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেচের কাজও এখনই শুরু করতে হবে। তবে এখনই বেশি খরচ করলে চলবে না। একের পর এক ধাক্কায় প্রাণ ওষ্ঠাগত। এখন পয়সা খুবই ইমপর্টেন্ট। যেই রাস্তাটা জরুরি এখন সেটাই ঠিক করতে হবে পিডব্লুডিকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে বর্ষায় যেন আবার ভেঙে না যায়।”

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজন পড়লে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে রেশন পৌঁছে দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যুতের ভেঙে পড়া খুঁটি সারিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে আসতে হবে। স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের জন্য আলাদা প্যাকেজ করা হোক। কারণ তাদের বই, খাতা ও ব্যাগ নষ্ট হয়েছে। সেগুলি বিনামূল্যে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। স্কুলের পোশাক নষ্ট হলে ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন জেলাশাসক।