কলকাতা:  রাজ্য সরকারি দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্যে দীর্ঘদিন ধরেই নীতি আনার কথা ভাবা হচ্ছিল। অবশেষে কর্মীদের কথা ভেবে সুনির্দিষ্ট নীতি আনল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থ দফতর। যেখানে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতনের থেকে কম দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সিগুলিকে স্পষ্ট বলা হয়েছে– ইএসআই, ইপিএফ সহ যাবতীয় সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে আনতে হবে এই সমস্ত কর্মীদের।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ইচ্ছামতো কেটে নেওয়া হচ্ছে বেতন। এমন একগুচ্ছ অভিযোগ জমা হয় প্রশাসনের কাছে। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সরকার। সুস্পষ্ট নীতি নিয়ে আসে। যেখানে রাজ্য সরকার এজেন্সিগুলির ‘ফি’ স্থির করে দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর্মীদের বেতনের ১ শতাংশ এজেন্সি ফি কাটা যাবে।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, বর্তমানে রাজ্য সরকারি দফতরের সব মিলিয়ে হাজার পাঁচেকের বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। যাঁদের অধিকাংশই আট থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন পান। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন গত বছরই বৃদ্ধি করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। অর্থ দফতরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যজুড়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন কাঠামোয় সাযুজ্য আসবে বলে মত প্রশাসনিক কর্তাদের।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই মতো বিজ্ঞপ্তিও জারি করে অর্থদফতর। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী যাঁরা পাঁচ বছর বা তার কম সময়ে কর্মরত, তাঁদের বেতন ১০ থেকে ১২ হাজার করা হয়েছিল। ১০ বছর বা তার কম সময়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার করা হয়েছিল। গ্রুপ-সি কর্মী, যাঁরা পাঁচ এবং ১০ বছরের মধ্যে কর্মরত, তাঁদের বেতনও দু’হাজার টাকা বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৩ হাজার ৫০০ এবং ১৫ হাজার ৫০০ করা হয়েছিল। এভাবে কার্যকালের মেয়াদ ভেদে দু’হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ।