স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে সামলানোটা বেশ চাপের হয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের কাছে। তাই তাঁকে বাগে আনতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল শাসক দল। রাজ্যপালের সঙ্গে এখন থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কোনও যোগাযোগ থাকবে না। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই নতুন নিয়ম পেশ করলেন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এদিন সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রাজ্যপাল পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের অপসারণের দাবি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, রাজ্যপাল বিলে সই না করায় বিধানসভার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিধানসভায় কোনও বিজনেস হচ্ছে না। এরপরই বিধানসভায় নতুন বিধি পেশ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নতুন নিয়মে সবক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাজভবনের যোগাযোগ হবে শিক্ষা দফতর মারফত।

একনজরে নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে:-

1.নতুন নিয়মে বলা হয়েছে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি মারফত তিনজনের নামের তালিকা রাজ্যপালকে পাঠাবে শিক্ষা দফতর। সেই তিনজনের মধ্যে থেকে কোনও একজনকে উপাচার্য হিসেবে বেছে নেবেন রাজ্যপাল। কিন্তু নতুন নিয়মে বলে দেওয়া হচ্ছে, এখন থেকে তিনজনের মধ্যে যে কোন একজন নয়, প্রথমে যাঁর নাম থাকবে সেই নামেই অনুমোদন দিতে হবে রাজ্যপালকে।

2. এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক উপাধি (ডক্টরেট) দেওয়ার ক্ষেত্রে যে তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করত, সেই তালিকা রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হত। তারপর প্রয়োজনে রাজ্যপাল সেই তালিকা বদল করতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয় তালিকা পাঠাবে শিক্ষা দফতরকে। শিক্ষা দফতর সেই তালিকা পাঠাবে রাজভবনকে। সেই তালিকায় কোনও রকম পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাজ্যপালের থাকবে না।

3. আগে নিয়ম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট বা কোনও ধরনের মিটিং ডাকার ক্ষেত্রে উপাচার্যের তরফে আচার্য তথা রাজ্যপালকে বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হবে। তারপর রাজ্যপাল বৈঠক ডাকবেন। কিন্তু নতুন নিয়মে রাজ্যপালের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হল। এখন থেকে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে উপাচার্য বৈঠক ডাকতে পারবেন। উপাচার্যের তরফে রাজভবনকে শুধুমাত্র দিনক্ষণ জানিয়ে রাখলেই হবে।

4. বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিতে রাজ্যপালের একজন প্রতিনিধি থাকেন। সেই নাম রাজ্যপাল নিজেই ঠিক করতেন। নতুন নিয়মে এখন থেকে শিক্ষা দফতর রাজ্যপালকে যে তিনটে নাম পাঠাবে, সেই নামের মধ্য থেকেই যে কোনও একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিতে রাজভবনের প্রতিনিধি হিসাবে মনোনীত করতে হবে রাজ্যপালকে। 5.কোনও উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে রাজ্যপালের কোনও অভিযোগ থাকলে রাজ্যপাল সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। শিক্ষা দফতরকে জানাতে হবে রাজভবনের পক্ষ থেকে এবং তারপর শিক্ষা দফতর তদন্ত করে দেখবে। সেই তদন্তের ভিত্তিতে হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

6. সমাবর্তনের ক্ষেত্রেও উপাচার্য যা সিদ্ধান্ত নেবে তা শিক্ষা দফতরের মাধ্যমেই নিতে হবে। সমাবর্তনের ক্ষেত্রে আচার্য তথা রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। 7. রাজ্যপালের বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত যদি কোনও প্রস্তাব থাকলে তা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জানানো যাবে না। এতদিন আচার্য বা রাজ্যপাল সেটা সরাসরি উপাচার্যকে জানাতে পারতেন। এখন থেকে যে কোনও প্রস্তাব শিক্ষাদফতর মারফত রাজ্যপালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাঠাতে হবে।

8. বিশ্ববিদ্যালয়ে এতদিন আচার্যের সচিবালয় থাকত, এখন থেকে তা আর থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনও বিধিই প্রয়োজন মতো বদল করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের থাকবে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ