কলকাতা: ৮০ শতাংশ এলাকায় জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। নবান্নে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আছড়ে পড়েছে প্রায় তিনদিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চারপাশে লন্ডভন্ড হয়ে থাকার ছবি। অনেক জায়গাতেই নেই এখনও বিদ্যুৎ, পানীয় জল। ফলে ক্রমশ বাড়ছে বিক্ষোভ।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমফান বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের দু’লক্ষেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। ২৪ ঘণ্টা কাজ করে চলেছেন তাঁরা। নবান্নে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বলা নয়, যেভাবে কাজ করে চলেছেন ওই সমস্ত কর্মীরা সেজন্য কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপরেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। তবে সুপার সাইক্লোন আমফান পরবর্তী বিপর্যয় মোকাবিলায় সকলের সাহায্যও চেয়েছেন তিনি। বুধবার কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে যায় বিধ্বংসী সুপার সাইক্লোন। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বাংলার উপকূল।

এখনও জলের তলায় উপকূলের একাধিক অংশ। দুই ২৪ পরগণার বহু অংশ চারদিন কেটে গেলেও ধ্বংসস্তুপ সরেনি। লন্ডভন্ড কলকাতা এবং শহরতলি। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর থেকেই পুলিশ-প্রশাসন-সহ রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের কয়েকলক্ষ কর্মী যাঁরা রাস্তা থেকে গাছ সরানো, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা, ত্রাণ বণ্টন, পরিকাঠামো পুনর্গঠন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ করে চলেছেন নিরন্তর, তাঁদের কুর্নিশ করি।’ রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা সবাই বাংলাকে ফের স্বাভাবিক করতে হাত লাগিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্য্যমন্ত্রী।

এর পরেই রাজ্যের কোন দফতরের কত কর্মী কাজ করছেন, তার একটি তালিকাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ধ্বংসের চেহারা নেওয়া এলাকাগুলিতে রাজ্যের প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ২০০ জন কর্মী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৩০টি দলের ১,২০০ সদস্যকে বাদ দিলে বাকি প্রায় পুরোটাই রাজ্য সরকারি কর্মী। এই কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প