কলকাতাঃ  গত কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। এখনও নিজেদের দাবিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা। চলছে কর্মবিরতি। ফলে শিকেয় উঠেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এই অবস্থায় জুনিয়র আন্দোলনকারী ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররাও। গোটা রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতাল থেকে গণইস্তফার পথে ডাক্তাররা। ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় জট কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতেই এনআরএসে আন্দোলনকারী ডাক্তারদের তলব করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের ডাকে সাড়া দেয়নি তাঁরা।

এই অবস্থায় আজ শনিবার ফের সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, আজও তাঁর ডাকে জুনিয়র ডাক্তাররা সাড়া দেবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিকেল ৪টের সময় নবান্নে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র সহ একাধিক সিনিয়র ডাক্তাররা থাকবেন। ফলে এই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী। কারণ এই বৈঠকে জট কাটার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিকমহলের একাংশ। যদি অবশ্য এই বৈঠকে আন্দোলনকারী ডাক্তাররা যোগ দেন।

উল্লেখ্য শুক্রবার রাতেই আন্দোলনকারীদের নবান্নে ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী । এনআরএসে গিয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের চার প্রতিনিধিকে নবান্নে যাওয়ার অনুরোধ করেন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র । কিন্তু, সেখানে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে । খোদ আধিকারিককে ঘিরে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেওয়া হয় । মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকেও বৈঠকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা বক্তব্য, আমরা যাব না। মুখ্যমন্ত্রীকে আসতে হবে এনআরএসে। প্রথমে ক্ষমা চাইতে হবে। এরপর সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এরপর রাতেই আন্দোলনকারী ডাক্তাররা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং দোষীদের শাস্তির দাবি কর্মবিরতিতে গিয়ে আন্দোলনে বসেছিলেন নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজের ডাক্তাররা৷ চাইছেন ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি৷ এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে চারঘন্টার মধ্যে ডাক্তারদের কাজে ফেরার হুমকি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এরপরই বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটেন বাংলার সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা৷ কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজগুলিতে ইস্তফা দিতে শুরু করেন সিনিয়র এবং জুনিয়র ডাক্তাররা৷ এর মধ্যেই আজ বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।