ফাইল ছবি। প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনও যোগ নেই।

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আভাস ছিল৷ কিন্তু তা যে বাস্তবে পরিণত হবে ভাবেননি জোড়াফুল শিবিরের নেতা থেকে কর্মী কেউই৷ পদ্মের সুভাষে বিপর্যস্ত তৃণমূল৷ বৃহস্পতি-শুক্রবার মুখ খোলেননি সুপ্রিমো৷ তবে কারণ অনুসন্ধানে বৈঠকের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়৷ 

কালীঘাটের বাড়িতে জরুরি বৈঠক ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামিকাল শনিবার নিজের বাসভবনেই সবাইকে ডেকে পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী। ৪টে থেকে এই বিশেষ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সমস্ত জেলার তৃণমূল সভাধিপতি থেকে নেতৃত্বকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে৷ থাকতে বলা হয়েছে জয়ী এবং পরাজিত সব তৃণমূলের প্রার্থীদেরও।

লোকসভা ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে আটটি আসনের মধ্যে একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তৃণমূল৷ দক্ষিণবঙ্গে ৩৪ আসনের মধ্যে ২২টি জিতেছে তারা৷ জোড়াফুল শিবিরের এবারের আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় ১২টি কম৷ কেন হল এমন শোচনীয় অবস্থা? ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করা হয়েছে তৃণমূলের সব জেলা সভাপতিদের কাছ থেকে৷

তৃণমূল মনে করছে এই হারের কারণ মূলত তিনটি৷ প্রথমত, বাম ভোট গেরুয়া শিবিরে স্থানান্তরিত হয়েছে৷ ফলে শতাংশে বেড়েছে বিজেপি৷ বাড়িয়েছে তাদের আসন সংখ্যাও৷ দ্বিতীয়ত, এবার ভোট হয়েছে মেরুকরণের ভিত্তিতে৷ তাতেই সুবিধা পেয়েছে গেরুয়া শিবির৷ তৃতীয়ত, দলের নেতা, কর্মীদের একাংশের জনসংযোগে ঘাটতি রয়েছে৷

২৩ মে – ফাঁকা মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির রাস্তা

 

জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৪২ লোকসভার কেন্দ্র ধরে ধরে আলোচনা হবে আগামীকরালের বৈঠকে৷ রাজ্যের বহু পুরসভার নির্বাচন হবে আগামী দিনে৷ ২০২১শে হবে বিধানসভা৷ লোকসভা ভোটের নিরিখে রাজ্যে ১২৫-১২৬ বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি৷ বাংলায় পদ্ম শিবিরের এই উত্থান ঠেকাতে তাই কালক্ষেপ না করে দ্রুত পদক্ষেপ করতে মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রথম সারির তৃণমূল নেতার কথায়, বিজেপির চোরা হাওয়া এতটা রয়েছে আঁচ করা যায়নি৷ মানুষও ওদের সমর্থন করেছে না হলে এই ফল হয় না৷ কারণ অনুসদ্ধানেই বোঝা যাবে সবকিছু৷

ফাইল ছবি

রাজ্যের বিজেপি নেতাদের দাবি, ইতিমধ্যেই তাদের কাছে শাসক দলের নেতাদের ফোন আসতে শুরু করেছে৷ জোডা়ফুল থেকে পদ্মে যাতরা রুখতেই কী এই বৈঠক? জানা যাচ্ছে এবিষয়ও মুখ খুলতে পারেন নেত্রী৷ স্পষ্ট জানিয়ে দিতে পারেন, ইচ্ছে থাকলে দল বদল করতেই পারে কেউ৷ কিন্তু দল বিরোধী কাজ কোনও মতেই মানা হবে না৷

লোকসভার রায় থেকে স্পষ্ট মানুষ উপযুক্ত বিকল্প খুঁজছে৷ যা তৃণমূল শিবিরের চিন্তা বাড়িয়েছে৷ তাই ‘চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে’র মতো তড়িঘড়ি বৈঠকের ডাক বনে মনে করা হচ্ছে৷