স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া ও কলকাতা: ফের নাম না করে মুকুল রায়কে ‘গদ্দার’, ‘মীরজাফর’, ‘বড় চোর’ বলে সম্বোধন করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

হাওড়ার ডুমুরজোলায় দলীয় ছাত্র-যুব সমাবেশ থেকে বললেন, ‘‘সিরাজদৌলাকে হারাতে মীরজাফর তৈরি হয়েছিল৷ কিন্তু ইশ্বর বাঁচিয়ে দিয়েছেন আমাদের৷ ওই গদ্দারটা গেছে, আমরা বেঁচে গেছি৷ দলটা বেঁচে গেছে৷’’ পরক্ষণেই মুকুল প্রসঙ্গে জনতাকে সর্তক করে মমতা বলেন, ‘‘ওই গদ্দারটাকে একদম বিশ্বাস করবেন না৷ ১ লক্ষ ভাল মানুষের পরিবর্তে ১টা গদ্দার তৈরি হয়৷ ওর থেকে সতর্ক থাকুন৷’’

তৃণমূলকে ভাঙাতে মুকুল রায় টাকার লোভ দেখাচ্ছে বলেও নাম না করে অভিযোগ করেছেন দলনেত্রী৷ এরপরই বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসকে এক বন্ধনীতে রেখে মমতার হুঙ্কার, ‘‘ওরা তৃণমূলের যত বিরোধিতা করবে, ততই ওরা গর্তে ঢুকে যাবে৷’’ বিরোধীদের মুখের কথার কোনও ট্যাক্স নেই- জানিয়ে বলেছেন, ‘‘বাংলায় তিনটে পার্টিকে এক করলেও আমাদের ধারে কাছে আসতে পারবে না ওরা৷ এটা মানুষের আর্শীবাদ৷’’

ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, ‘‘আগামী লোকসভায় দেশজুড়ে ওরা এমন হার হারবে যে ১৯ এ দূরবীন দিয়েও বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ ’’ বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার তাস খেলার অভিযোগ এনে বলেছেন, ‘‘শুধু হিন্দু-মুসলমান করে বেড়ায়৷ বিজেপি জন্ম কত সালে? অভিষেক বলছে ৮৪৷ তাহলে হিন্দু পুজো নিয়ে তোমরা বলো কি করে? কীভাবে কালীপুজো হবে, সেটা কি ওরা ঠিক করে দেবে? রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের কথা শুনবো, নাকি তোমাদের কথা শুনবো?’’

নোয়াপাড়া ও উলুবেড়িয়ায় ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে – বিরোধীদের অভিযোগ এমনই৷ যার জবাবে দলনেত্রী বলেছেন, ‘‘একটা লোকও বলেছে ভোট দিতে পারিনি? একটাও রি-পোল হয়েছে? অবজার্ভার, সেন্ট্রাল ফোর্সকে পাঠিয়েছে? তাও কমরেড ভোট পাচ্ছেন না! তাহলে আমরা কি করব?’’ টাকা ছড়িয়ে বিজেপি বাংলার মাটি দখল করতে চাইছে- জোরালো অভিযোগ জানিয়ে পর মুহূর্তেই হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘‘যতই টাকা ছড়ান, বাংলার মাটিটা অন্য মাটি, এখানে টাকা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে পারবেন না৷’’