কলকাতাঃ  গতি বাড়িয়ে প্রচন্ড গতিতে ধেয়ে আসছে সাইক্লোন বুলবুল। সাগরদ্বীপ থেকে আর মাত্র ৮৫ কিমি দূরে সাইক্লোন বুলবুল। ফলে আর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সেটি বঙ্গে আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে আলিপুর হাওয়া অফিস। ইতিমধ্যে উপকূল এলাকা থেকে ৮৪ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যে ৬টা থেকে উপকূলে হাওয়ার দাপট বাড়বে। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে নবান্নে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনে খোলা কন্ট্রোল রুমে এই মুহূর্তে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বসেই গোটা পরিস্থিতির উপর তিনি নজর রাখবেন বলে জানা যাচ্ছে।

শুধু কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা নয়, ইতিমধ্যে রাজ্যবাসীকে বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে লিখেছেন, কোনওভাবে আতঙ্কিত হবেন না। শান্ত থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। প্রশাসন বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। মমতা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও লিখেছেন, রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ, অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে বন্ধ রাখা হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দর। শনিবার সন্ধে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দর। জানা গিয়েছে শনিবার সন্ধে ৬টা থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এই বিমানবন্দর। সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনও বিমান উড়বে না বা অবতরণ করবে না এই বিমানবন্দরে। উপকূল থেকে আর বেশি দূরে নেই বুলবুল। যে গতিতে ধেয়ে আসছে এই সাইক্লোন, তাতে ঘণ্টাখানেক লাগবে উপকূলে আছড়ে পড়তে।

সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়বে এই ঝড়। প্রভাব পড়বে দীঘা, মন্দারমনি, বকখালি সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ইতিমধ্যে বিপর্যয় রুখতে প্রস্তুত রয়েছে কমব্যাট ফোর্স। তৈরি রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও। জানা গিয়েছে, গঙ্গাবক্ষে প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই মাইকিং করা শুরু হয়েছে। ছোট নৌকা নদী পারাপার নিয়ে ব্যাপক কড়াকড়ি জারি হয়েছে। লঞ্চ, ফেরি সার্ভিস ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় ঘন্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় কলকাতার উপর দিয়ে বয়ে যাবে। ফলে গাছ ভেঙে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে শহরে। শুধু তাই নয়, বহু পুরানো বাড়িও রয়েছে। তা নিয়েও বেশ চিন্তিত পুরসভা।