শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : রাজনীতিতে কত কী না ঘটে। এক সময়ের প্রিয় পাত্র ও কাছের মানুষও কখনও কখনও হয়ে যান প্রতিপক্ষ। যেটা এবার নন্দিনীগ্রাম বিধানসভা (Nandigram Assembly) নির্বাচনে হলো। নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতিপক্ষ তাঁরই একসময়ের রাজনৈতিক সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)।

বলা ভালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরী নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আর এই যুদ্ধ পরিপূর্ণতা পেতে চলেছে আগামী ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারী।

কেননা এখনও পর্যন্ত যেটা ঠিক আছে তাতে ১০ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলদিয়া প্রশাসনিক ভবনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজের মনোনয়নপত্র (Nomination Paper) জমা দেবেন। অন্য দিকে শুভেন্দু অধিকারী ১২ ফেব্রুয়ারি হলদিয়া প্রশাসনিক ভবনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

এর ফলে ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে একসময়ের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী সংগ্রামে সরকারিভাবে অবতীর্ণ হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন জমা দিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন নন্দীগ্রামের রেয়া পাড়া শিবমন্দিরে শিবলিঙ্গে জল ঢালবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে

২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে সভা করার সময় সেই সভা মঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছিলেন। সেদিন শুভেন্দু অধিকারীর মুখে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভরসার হাসি। আজ সেটা বিলীন। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করেছেন।

আর এই ঘোষণার পরই শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে সভা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন, “আমি নন্দীগ্রামে মাননীয়াকে আধ লাখ ভোট হারাতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।” এর পরও রবিবারের ব্রিগেড সমাবেশ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রামে মাননীয়াকে হারাবোই হারাবোই হারাবোই।”

পশ্চিমবঙ্গ এখন একটা রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তৃণমূলের ওপর একদিকে বিজেপি-র চাপ। তার ওপর যারা বিজেপি-র হয়ে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সভায় সমালোচনা করছেন “পিসি-ভাইপো” বলে সেটা রাজ্য রাজনীতিতে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই দৃশ্য দেখে মনে পরে যাচ্ছে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা। বিধানসভা নির্বাচনে এই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। যাদবপুর বিধানসভা নির্বাচনে সেবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharya) বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন বুদ্ধবাবুর প্রশাসনের মুখ্যসচিব মনীশ গুপ্ত (Monish Gupta)। বুদ্ধবাবু সেই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন তারই প্রশাসনের মুখ্যসচিবের কাছে। এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভায় কিন্তু প্রতি মুহূর্তে ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনের সেই কাহিনী মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। বাকিটা বোঝা যাবে ২ মে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।