সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ‘বেয়াদপ’ আলুর কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের কড়া বার্তা দিলেন কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাসগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সরকার যেটা বলছে সেটাই শুনতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে। না করলে ‘বেয়ারা’ ওইসব কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়ে দিলেন।

প্রত্যেক বছর আলুর হঠাৎ দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রচুর অভিযোগ ওঠে। এক বিশেষ করে পুজোর আগে দাম বৃদ্ধি হয় আলুর। এর কারণ হিসাবে মন্ত্রী জানাচ্ছে্ন, “রাজ্যে ৫৬৩টি আলুর হিমঘর রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু হিমঘরের মালিকরা রয়েছেন যারা ওই দরকারের সময় আলু ইচ্ছা করে রেখে দেন। ক্রাইসিস তৈরি করেন। বাজারে আলু দিলেও এত কম করে দেন যে চাহিদা মেটানো যায় না।”

স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা অনুযায়ী যোগান না থাকলেই দাম বৃদ্ধি পায়। সেই কাজটাই করছেন ওইসব হিমঘর মালিকরা। এদের জন্যই মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি। দরকারের সময়ে অকারনে আলু আটকে রাখলে তিনি কড়া ব্যবস্থা নেবেন। তিনি বলেন, “আমি হুগলীর ছেলে। চাষবাস নিয়ে আমার সঙ্গে চালাকি চলবে না। যদি করেন তাহলে কড়া হতে বাধ্য হব।” এদিন ৫৪তম কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সম্মেলনে এসেছিলেন বিপণন মন্ত্রী, সেখানেই তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

মন্ত্রী বলেন, “৩৩০ জনের মতো সদস্য রয়েছে এই অ্যাসোসিয়েশনে। কিন্তু পুরশুরা থেকে বেশ কিছুজন রয়েছেন তাঁরা প্রচণ্ড অসভ্যতা করছে। আমি গত মরসুমে নিজে ফোন করে আলুর স্টক ছাড়তে বলেছি। আমাকেও বলেছে ‘দেখছি, ছেড়ে দেব”। আমি এসব আর বরদাস্ত করব না। সরকারের কথা শুনতে হবে। শুনতে হবে অ্যাসোসিয়েশনের কথা। এবার না করলে বিপদ সামনেই।”

এদিন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কৃষি বিপণন মন্ত্রীর কাছে অনেকগুলি দাবি রাখা হয়। এর মধ্যে সোলার সিস্টেম তাপবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্টোরেজ নতুন পদ্ধতিতে সাজিয়ে দেওয়ার দাবি আসে। মন্ত্রী হিমঘর অ্যাসোসিয়েশনকে আস্বস্ত করে বলেন, “আপনারা আমাদের সঙ্গে অনেক সহযোগিতা করেন। সরকার এবং আমার দফতরও আপনাদের সঙ্গে থাকবে। সাবসিডি থেকে শুরু করে যা যা সাহায্য দরকার আমরা আপনাদের করব। ঋণ লাগলে ঋণ দেব। ব্যবসায়ে লাভ ক্ষতি থাকবে তা বলে কাজ থমকে গেলে হবে না। আমাদের ১২ শতাংশ স্টোরেজ বন্ধও রয়েছে। সেগুলো খোলার ব্যবস্থা করুন আমরা বাকিটা দেখছি।”