স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের আয় বাড়াতে এবার ভিন্‌ রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে রাজ্য লটারি। আগামী এপ্রিল থেকে দক্ষিণ ও উত্তর ভারতে ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির’ টিকিট বিক্রি শুরু হবে। রাজ্যের আশা, দু-তিন বছরের মধ্যেই আড়াইশো কোটি টাকা রোজগার হবে।

এখন কেরল, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, গোয়া, মহারাষ্ট্র, সিকিম, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর ও মেঘালয়— এই ১৩টি রাজ্য নিজেদের লটারি চালায়। দেশের নতুন লটারি আইন অনুযায়ী কোনও রাজ্যের নিজস্ব লটারি চালু থাকলেও অন্য রাজ্যের লটারির টিকিট বিক্রি করা যাবে৷ এরপরই এ রাজ্যের বাজারে ঢুকে পড়ে কেরল, নাগাল্যান্ড, সিকিম-সহ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির লটারির টিকিট। এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারিও সেই পথে হাঁটা শুরু করছে৷

আয় বাড়তেই ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সাপ্তাহিক লটারির বদলে দৈনিক লটারি চালু করেছে। তার ফলও মিলেছে৷ লটারি থেকে রেকর্ড আয় করে এবার ইতিহাস গড়েছে রাজ্য সরকার৷ ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার লটারি বিক্রি করে মোট ২২৩ কোটি ৭৬ লক্ষ ৪ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়েছে।নবান্ন সূত্রের দাবি, ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে রাজ্যজুড়ে মোট ২১০০ কোটি টাকার লটারি বিক্রি করেছিল রাজ্য সরকার। পুরস্কার মূল্য, ডিস্ট্রিবিউটরদের পাওনা, এজেন্টদের কমিশন সহ বিবিধ খাতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে সরকারের ঘরে নিট ২২৩ কোটি টাকা ঢুকেছে৷

অর্থ দফতর সূত্রের দাবি এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে৷ এক, আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির সপ্তাহে একবার করে খেলা হতো। বছরে সবমিলিয়ে ৫৪টি খেলা হতো। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৮ সালের ১৪ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারির প্রতিদিন খেলা হয়। বর্তমানে সরকারি লটারি খেলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৬৮টি। বঙ্গলক্ষ্মী, বঙ্গশ্রী সুপার এবং বঙ্গভূমি ক্যাটিগরি মিলিয়ে এখন ‘দৈনিক ড্র’ হয় বছরে ৩৬২টি। পাশাপাশি বছরে ছয়টি (নিউ ইয়ার, রথ, হোলি, নববর্ষ, পুজা এবং দীপাবলি) বাম্পার ড্র-এর আয়োজন করা হচ্ছে।

দুই, আগে ভিন রাজ্যের লটারি সংস্থাগুলি প্রতিদিন নগদ পুরস্কারের টোপ দিয়ে ব্যবসা করে বেরিয়ে যেত। কিন্তু সেটা এখন বন্ধ হয়েছে৷ এখন প্রতিদিন বিকেল চারটেয় কলকাতার গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের অফিসে রাজ্য সরকারি লটারির ফলাফল ঘোষণা হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গোটা প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করে তা ইউটিউবে পোস্ট করা হয়। সিকিম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, গোয়া সহ বাইরের রাজ্যগুলির লটারি খাতের লাভের টাকা বাংলা থেকে নিয়ে যাওয়া পুরোপুরি আটকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার অন্য রাজ্যের বাজার ধরতে উদ্যোগী হয়েছে তাঁর সরকার৷

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I