স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরেই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)৷  ‘কৃষকবন্ধু’ (KRISHAK BANDHU) প্রকল্পের ভাতা দ্বিগুন বৃদ্ধি করল তাঁর সরকার। বার্ষিক ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হল। নবান্ন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে ।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় ফিরলে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের ভাতার অঙ্ক বাড়ানো হবে। সেই কথা রাখলেন। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল নবান্নে। তাতেই কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ভাতার অঙ্ক ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় মন্ত্রিসভা।

আরও পড়ুন: সংসদে ‘বিবাহিত’ পরিচয়, আইনি জটিলতায় কি পড়তে পারেন নুসরত: কী বললেন আইনজীবী

রাজ্য সরকারের এই ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের প্রতিযোগিতা বরাবরই ছিল। একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রীরা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বছরে ৬ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন কৃষকরা। আর যেহেতু গত দু’‌বছর ধরে কেন্দ্রের প্রকল্পটি চালু হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় তা কার্যকর হয়নি, তাই সবমিলিয়ে এককালীন ১৮ হাজার টাকা প্রতি কৃষককে দেওয়া হবে। বার্ষিক ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সেই অঙ্ক ১০ হাজার করা হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্পে কৃষকদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যে দুর্নীতি হতে পারে৷ এই কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi) কাছে বাংলার কৃষকদের পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়া আপাতত বন্ধ করার আর্জি জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মোদীকে পাঠানো চিঠিতে দিলীপ দাবি করেছেন, রাজ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ২৩ লাখ কৃষক নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করলেও প্রথম দফার টাকা পেয়েছেন ৭ লাখ চাষি। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মাননিধির টাকা পাওয়ার জন্য বাংলা থেকে ৪০ লাখ কৃষক নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু সবার নাম এখনও ভেরিফাই হয়নি।

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় ফিরেই কিষাণ সম্মাননিধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এটা জেনে নিশ্চয়ই কেন্দ্র খুশি হবে যে, রাজ্য সরকার ঘোষিত ‘কৃষকবন্ধু’ স্কিমের (KRISHAK BANDHU) জন্য ইতিমধ্যেই ১,৪৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এবং প্রায় ৫৮ লাখ কৃষক ইতিমধ্যেই এর সুবিধা পেয়েছেন। এবং আরও ২৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে ২০২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৃত কৃষকদের পরিবারকে অর্থসাহায্য করার লক্ষ্যে।স শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সফরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার বলেছেন, বকেয়া-সমেত প্রত্যেক কৃষককে ১৮,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই মর্মে একটি টাকাও রাজ্যে এসে পৌঁছয়নি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.