নন্দীগ্রাম : নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। তবে কোনও রাজনৈতিক দলেরই ইতিমধ্যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়নি। অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হলেও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে তা মঞ্জুরও করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি।

আর এরপরেই নন্দীগ্রাম জুড়ে জমজমাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট প্রচার। দেওয়ালে দেওয়ালে ছয়লাপ ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটা ফুল চিহ্নে ভোট দিন’। পতাকা, ফেস্টুনে মুড়ে দেওয়া হয়েছে গোটা নন্দীগ্রাম এলাকা।

অতীতে একসময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা বলেন। নন্দীগ্রাম থেকেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন শুভেন্দু। কিন্তু সে সময়ের মমতার বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু এখন দলবদল করে বিজেপিতে। তাই এবার আর কারুর ওপর দায়িত্ব না ছেড়ে স্বয়ং নেত্রী নিজেই এবার দাঁড়াচ্ছেন নন্দীগ্রাম থেকে।

প্রথম দফাতেই নন্দীগ্রামের নির্বাচন। তাই সেই জায়গায় বিরোধী কোনও দলের এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়নি। এদিকে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়ানোর কথা আগে থেকে কর্মীরা জেনে যাওয়ায় জোর কদমে লেগে পড়েছেন ভোট প্রচারে। সকালে সূর্য ওঠা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ভোট প্রচার।

ইতিমধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা বেশ কয়েকবার নন্দীগ্রামে এসে স্থানীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন। দফায় দফায় এসেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। প্রচারের কৌশল বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন তিনি। তার নির্দেশমতো ইতিমধ্যে কর্মী-সমর্থকরা ময়দানে নেমে পড়েছেন। গোটা রাজ্যবাসী এখন তাকিয়ে নন্দীগ্রামের দিকে। কারণ নন্দীগ্রাম প্রেস্টিজ ফাইট তৃণমূলের কাছে।

ইতিমধ্যে গত শনিবার নন্দীগ্রামে এসে মমতার নামে পুজো দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম এক ব্লকে তিনটি কর্মীসভা করে গেছেন তিনি। সব মিলিয়ে মনোবল বাড়াতে যেমন তৎপর রাজ্য নেতৃত্বরা তেমনি প্রচারে লেগে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নিজেদের জেলা থেকে মমতা নিজে প্রার্থী হওয়ার কথায় বেজায় খুশি তাঁরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ দেওয়াল লিখনের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রায় প্রত্যেক দিন মিটিং মিছিল চলছে।

বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার আগেই ইতিমধ্যে নিজেদের মাঠ তৈরি করে ফেলেছে তৃণমূল। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো- অর্ডিনেটর শেখ সুফিয়ান বলেন, “নন্দীগ্রামে আমরা নিজেদেরকে পুরোপুরি গুছিয়ে রেখেছিলাম। তাই ভোটের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুত হতে সময় লাগেনি। আগে থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় দেওয়াল লিখনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ভোট প্রচারের জন্য ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে।দুয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করা হবে। কর্মিসভা শুরুও হয়েছে। নন্দীগ্রামে প্রচারে কোনও খামতি রাখা হবে না। শুধু জয় নয় এবার আমাদের টার্গেট ব্যাপক ব্যবধানও।”

সব মিলিয়ে জমে উঠেছে নন্দীগ্রামের ভোট প্রচার। নন্দীগ্রাম বিধানসভা থেকে কোন দল জয়ের শিরোপা ছিনিয়ে নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।