সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতাকে বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। কোনও পন্থাতেই তারা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি নয়। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন আন্দোলন চলবে, বন্ধ থাকবে তাদের পরিষেবা। রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও একইভাবে তাঁর ব্যর্থতা তুলে ধরছে। এক দশক আগের ঘটনা যেন বলে দিচ্ছে, হ্যাঁ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যর্থ। তিনি অনমনীয় হয়ে আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তিনি সহিষ্ণু হয়েছেন।

পাঁচ দিন ধরে অচলাবস্থার পরেও কোনও জুনিয়র ডাক্তারের উপর কোনও ওজর খাটায়নি মমতার সরকার। বৃহস্পতিবার চার ঘন্টার মধ্যে আন্দোলন তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া বাদে আর কোনও অসহিষ্ণু পদক্ষেপ তিনি বা তাঁর প্রশাসন নেয়নি। আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে পেরেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০০৯ সাল, তখন তিনি সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। জুনিয়র ডাক্তাররা টানা চার দিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে যেমন পরিষেবা বন্ধ করে রেখেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা ঠিক তেমন ভাবেই গুজরাতে হাসপাতাল চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করে আন্দোলন করছিলেন তারা। দাবি ছিল মাইনে বৃদ্ধি।

২৬ জুলাই, ESMA (Essential Services Maintenance Act) বা জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা আইন অনুযায়ী মোদীর গুজরাত সরকার ১৫০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে। বাকিদের জানিয়ে দেওয়া হয় তাদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। বন্ধ হয়েছিল চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করে ‘we want justice’ চাওয়ার আন্দোলন । এবার প্রশ্ন উঠতে পারে এই ESMA (Essential Services Maintenance Act)আইনটি কি? এই আইন অনুযায়ী , জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা বন্ধ করে কোনও আন্দোলন হলে প্রশাসন আন্দোলকারীদের কোনওরকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে।

সেটা করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইন না মেনে তিনি সহিষ্ণু হতে চেয়েছিলেন। ঘটনা সূত্রপাতের প্রথম দিনেই সাত থেকে আটবার ফোন করে আন্দোলকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কথা বলেননি জুনিয়র ডাক্তাররা। চার ঘণ্টার হুঁশিয়ারির পরেও এর বেশি না এগিয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলেন। শনিবার তাদের নবান্নে ডেকে কথা বলতে চেয়েছিলেন। আন্দোলকারীদের উত্তর দিয়েছেন, তারা বন্ধ ঘরে আলোচনা করতে রাজি নয়। মুখ্যমন্ত্রী তাদের কাছে এসে কথা বললে, নিজের কথা ফিরিয়ে নিলে তবেই কিছু ভেবে দেখতে পারে নচেৎ আন্দোলন চলবে। বন্ধ থাকবে পরিষেবা।

প্রসঙ্গত সোমবার রাতে রোগী মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এনআরএস। রোগীর পরিবার ও চিকিৎসকদের মধ্যে গন্ডগোলে জখম জুনিয়র ডাক্তার। প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর অচলাবস্থা জারি থাকে।বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, ৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের। না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে যায়। আন্দোলন আরও জোরদার হয়। শুরু হয় গণ ইস্তফা।