স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: “সিপিএমের বিরুদ্ধে আমি৷ কার্ল মার্কস, লেনিন আমার নেতা নয়৷ কিন্তু লেনিন, মার্কস, আম্বেদকরের, নেতাজির, গান্ধীজির মূর্তি ভাঙবেন এটা আমরা মেনে নেব না৷”

ঠিক এই ভাষাতেই মঙ্গলবার বাঁকুড়ার পাত্রসায়র কাঁকরডাঙায় সরকারি জনসভায় ত্রিপুরায় লেনিন মূর্তি ভেঙে ফেলার তীব্র বিরোধিতা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মতার অভিযোগ, বিজেপি গায়ের জোরে ভোটে জেতার পরও এখন জোর জবরদস্তি করেছে৷

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীদের তাণ্ডবে খান খান লেনিন মূর্তি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন প্রায় চল্লিশ মিনিটের বক্তৃতা জুড়ে ছিল বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন৷ মা, মাটি, মানুষের সরকারের কাজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “সিপিএমের ঋন৷ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি৷” এই দেনার টাকা শোধ করতে না হলে রাজ্যের আরও অনেক উন্নয়ন করা যেত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী৷

‘কন্যাশ্রী এখন বিশ্বশ্রী’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘কন্যাশ্রীর মেয়েরা রূপশ্রীর নির্ধারিত টাকা পাবে৷ রূপশ্রীর মেয়েদের কন্যাশ্রীর টাকা পেতে কোনও অসুবিধা নেই৷’’ একই সঙ্গে আশাকর্মী, আইসিডিএস, সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ সব চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের চাকরির মেয়াদ ষাট বছর পর্যন্ত করা হয়েছে বলেও তিনি ঘোষণা করেন৷ তিনি বলেন, “আর কেউ না থাকে জানবেন এই দিদি আছে৷”

আরও পড়ুন: অধিকার আছে! মূর্তি ভাঙা নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত

সাম্প্রতিক পিএনবি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপিকে এক হাত নেন তিনি৷ স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “ক্যাশলেস আজ হয়ে গিয়েছে ফেসলেস৷” মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য যে এবার কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করা, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট৷ তিনি বলেন, “লক্ষ্য লালকেল্লা৷ বাংলা নিজে চেয়ারে বসে না৷ অন্যকে চেয়ারে বসায়৷” রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বলেন, “আগুন জ্বালানো সহজ, কিন্তু তাতে সব ধ্বংস হয়ে যায়৷ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে৷ কেউ এক টুকরো মাংস ছড়িয়ে দাঙ্গা লাগাতে চেষ্টা করতে পারে৷ এরকম কিছু দেখলে পুলিশে খবর দিন৷”

আরও পড়ুন: মেলালেন… ‘ভাঙা লেনিন’ই মিলিয়ে দিলেন সীতা-প্রকাশকে!

ইন্দাস-পাত্রসায়র-সোনামুখী এলাকার মানুষের জন্য সুখবর শোনান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি জানান, নিম্ন দামোদর অববাহিকা এলাকায় দু’হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে৷ যাতে সেচ ও খাবারের জলের সুবিধা মিলবে৷ এছাড়াও ১২০০ কোটি জলপ্রকল্পের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান৷ এছাড়াও এই জেলায় শিল্পের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান৷

এদিন পাত্রসায়রের সভা মঞ্চ থেকে বেশ কিছু সরকারী প্রকল্পের ঘোষণা, উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পাশাপাশি কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজসাথী উপভোক্তাদের হাতে পরিষেবা তুলে দেন৷ এদিন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, শ্যামল সাঁতরা-সহ জেলার শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন৷

আরও পড়ুন: ত্রিপুরায় লেনিন মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে মহানগরীর রাস্তায় এসইউসিআই

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।