ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরনগর: মতুয়া নেতা তথা তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুন নিয়ে সোমবার দিনভর উত্তপ্ত ছিল উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া। একাধিক জায়গায় রেল অবরোধ করেন মতুয়া পরিবারের সদস্যা তথা তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর।

অন্যদিকে এদিনই মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি ঠাকুর বিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে হুমকি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বীণাপাণিদেবী জানিয়ে দিয়েছেন যে কেন্দ্রের নিয়ে আসা নাগরিকত্ব বিল তৃণমূল সমর্থন না করলে মতুয়াদের আর পাশে নাও পেতে পারেন।

এদিন দুপুরের দিকে বড়মা বীণাপাণিদেবীর স্বাক্ষর করা চিঠি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তাঁর নাতি তথা বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে লেখা সেই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে তুমি বলেই সম্বোধন করতে দেখা গিয়েছে মতুয়া মহাসংঘের প্রধান ব্যক্তিকে।

ইতিমধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব বিল। যা এখনও লোকসভায় পাশ হওয়া বাকি। সংসদের উচ্চকক্ষে বিজেপি সংখ্যালঘু হওয়ায় অনেক বিল লোকসভায় পাশ হয়েও আটকে যায়। নাগরিকত্ব বিলের ক্ষেত্রেও তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।

এই অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসকে ওই বিল সমর্থন করতে আবেদন করেছেন বড়মা বীণাপানিদেবী। এই বিল কার্যকর হলে মতুয়াদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হবে বলেও লেখা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, চলতি মাসের দুই তারিখে ঠাকুরনগরে মতুয়াদের সভায় হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগরিকত্ব বিলে তৃণমূলের সমর্থন চেয়েছিলেন মোদী। এই বিল পাশ হয়ে গেলে মতুয়াদের উপকার হবে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বড়মা’র চিঠি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও এই চিঠি এবং চিঠির নিচের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বড়মা’র পুত্রবধূ তথা সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর। তাঁর অভিযোগ, “বড়মার বয়স ১০০ বছর হয়ে গিয়েছে। উনি সই করতে পারেন না। ওনার সই নিয়ে তদন্ত হোক।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “নাগরিকত্ব বিল পাশ হয়ে গেলে মতুয়াদের প্রবল প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হবে। অসমে এনআরসি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তেমন বাংলাতেও ঘটবে।”

দেখুন সেই চিঠি: