স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, বকেয়া টাকা মেটানোর আর্জি জানিয়ে চিঠি লিখেছেন মমতা। পাওনার টাকা সময়মতো না মেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে সমস্যা হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে আপনাদের দেওয়া টাকার পরিমাণ দিন দিন কমছে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তাও আসছে অনেক দেরি করে। এর ফলে নানা জনকল্যাণমূলক কাজ করতে অত্যন্ত সমস্যা হচ্ছে। ২০১৯-২০ সালের আর্থিক বছরে রাজ্যের ১১ হাজার ২১২ কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সেবারের বাজেটে এমনই বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা বাংলা পায়নি। তাছাড়া কেন্দ্রীয় রাজস্ব থেকে আমাদের প্রাপ্যও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০১৭-১৮ সাল থেকে।

মমতা লিখেছেন, একটি ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তা হল বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে আমাদের প্রাপ্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা এখনও পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া ওই প্রকল্পগুলি চালানো যে কী কঠিন ব্যাপার, তা আপনি নিশ্চয় বুঝবেন।

মমতা এও লিখেছেন, জিএসটি চালু হওয়ার পরে রাজ্যের যে লোকসান হয়েছে, সেই বাবদ কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে রাজ্যের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা পেতে খুবই দেরি হচ্ছে। ২০১৯ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে যে অর্থ বাংলার পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া গিয়েছে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জিএসটি আদায়ে দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল বাংলা৷ অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছিলেন, ওই বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ১৪ শতাংশ জিএসটি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কলকাতা সফর কাল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে রাজ্যের বকেয়া টাকার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে যে বিশেষ সুবিধা হয়নি তা বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রর বাজেট বক্তৃতায় আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। আজ প্রধানমন্ত্রীকে বকেয়া টাকা চেয়ে সরাসরি চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

১১ জানুয়ারি রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মমতা জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের থেকে বিভিন্ন প্রকল্প বাবদ ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রাপ্য রয়েছে রাজ্যের। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে তিনি যে চিঠি লিখেছেন সেই মোতাবেক বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ