কলকাতা: কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ থাকার পর চলে গেলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। ঢাকার সেনা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। বাংলাদেশের সবথেকে তথা দক্ষিণ এশিয়ার সক্রিয় প্রবীণতম রাজনীতিকের জীবনাবসান হল। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শোকবার্তায় তিনি লিখলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আজ সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর । আদতে কোচবিহারের বাসিন্দা মহম্মদ এরশাদের সঙ্গে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। প্রয়াত এরশাদ বাংলাদেশের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সংসদের বিরোধী দলনেতা ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল। আমি মহম্মদ এরশাদের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি ।’

হুসেইন মহম্মদ এরশাদের জন্ম হয় ১৯৩০ সালে। কেউ বলেন তাঁর জন্ম অবিভক্ত ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায়। পরে তাঁর পরিবার চলে যায় পূর্ব পাকিস্তানে। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন- তার জন্ম কুড়িগ্রামে মামার বাড়িতে। আর তাঁর দল জাতীয় পার্টি জানাচ্ছে, প্রয়াত নেতার জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায়। তবে তাঁর পৈত্রিক ভিটে রয়েছে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। সেখানেই তাঁর বাল্য জীবন কেটেছে।

রাষ্ট্রপতি পদে থেকে বা তার পরেও বারে বারে দিনহাটায় এসেছেন তিনি। কমল গুহের মৃত্যুর পরেও এসেছেন। কমল পুত্র উদয়ন গুহ তাঁকে ‘কাকা’ বলেই ডাকতেন। এরশাদের পৈত্রিক ভিটে পরে দান করা হয় সামাজিক কাজে।

বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী অবস্থানে থেকেছেন এরশাদ। তবে তিনি বিরোধী হয়েও সরকারের সঙ্গে আপোষ নীতি নিয়ে চলেছেন। হয়েছিলেন সরকারি দূত। মৃত্যুর সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবেই ছিলেন। এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরশাদ পত্নী তথা গতবারের বিরোধী নেত্রী রওশন এরশাদ জানিয়েছেন শোক।