স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিএএ-এনআরসি নিয়ে একসঙ্গে আন্দোলনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে পাওয়ার ব্যাপারে এখনই হাল ছাড়তে চাইছে না কংগ্রেস৷ শনিবার সেই শহরে এসে সেই বার্তাই দিয়ে গেলেন কংগ্রেসের অন্তবর্তীকালীন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দূত পি চিদম্বরম৷

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি ও এনপিআর নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে গত ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন সোনিয়া গান্ধী৷র ডাকা বৈঠকে। সেই বৈঠকে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রদেশ কংগ্রেস দফতর বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরম বললেন, “একবার আসেননি তো কী হয়েছে! বিরোধীদের নিয়ে আরও একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার ডাকা হবে।”

শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। সোনিয়ার ডাকা ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন না বিএসপির মায়াবতী, এসপির অখিলেশ যাদব, ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের মতো তাবড় আঞ্চলিক নেতারা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সে কারণেই হয়তো আরও একটি বৈঠক ডাকতে পারেন সনিয়া গান্ধী। সেখানে যে মমতাকে ফের গুরুত্ব দিয়েই ডাকা হবে এদিন সেই বার্তাই দিলেন চিদম্বরম ।

গত ৮ জানুয়ারি ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘটে বাংলার মাটিতে বাম-কংগ্রেস গুন্ডামি করেছিল বলে তোপ দেগেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, এর প্রতিবাদ দিল্লিতে সোনিয়ার ডাকা বৈঠকে যাবেন না। কিন্তু চিদম্বরম এদিন বলেন, “একসঙ্গে লড়াই হচ্ছে, না একা লড়াই করছে সেটা এখন বড় বিষয় নয়। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সবাই লড়াই করছে।” এর রেশ ধরেই তিনি বলেন, “দেশের এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে সব বিরোধী দলগুলির একমঞ্চে আসাটা এখন সবচেয়ে জরুরি।”

এদিন এনপিআর নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পাঠানোর ব্যাখা দিয়েছেন চিদম্বরম৷ তিনি বলেন, ‘বৈঠকে যোগ দেওয়া মানেই সহমত হওয়া নয়।’চিদম্বরমের কথায়, ‘কোনও বৈঠকে যোগ দেওয়া মানেই সম্মতি জানানো নয়। এনপিআর নিয়ে আপত্তির কারণ জানতে কেন্দ্র রাজ্যের আধিকারিকদের বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে জনগণনা আধিকারিকের বক্তব্য শোনার জন্য রাজ্যের আধিকারিকরা বৈঠকে গিয়েছিলেন একইসঙ্গে নিজেদের উদ্বেগের বিষয়টিও তা সেখানে জানিয়েছেন। এটাই সঠিক পদ্ধতি।’

উল্লেখ্য, ওই বৈঠকে কংগ্রেস প্রতিনিধি পাঠানোয় বিরোধী রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কংগ্রেসের তরফে এনপিআর-এর বিরোধিতা করা হলেও কেন তাদের শাসিত রাজ্যগুলি কেন্দ্রীয় বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন চিদম্বরম।