স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আমফানে বিধ্বস্ত দক্ষিণবঙ্গ। এই সময় পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরলে কোভিড সংক্রমণ বাড়তে পারে। এই আশংকা থেকেই আপাতত শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো বন্ধ রাখতে চায় রাজ্য সরকার। শনিবার রেলকে চিঠি দিয়ে সে কথা জানালেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত রাজ্যে শ্রমিক ট্রেন না চালানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ১৩৩ কিলোমিটার বেগে আমফান কলকাতার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। তার দাপটে ঘটেছে প্রাণহানি। আমফানের দাপটে গোটা বাংলাই প্রায় ধ্বংসাবস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবারই জানিয়েছিলেন, ১৭৩৭ সালের পর এমন দুর্যোগ আর হয়নি। আমপানের তাণ্ডবে রাজ্যে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতায় ১৯ জন এবং বিভিন্ন জেলায় ৬১ জন মারা গিয়েছেন। এ ছাড়া, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের অন্তত ১৩টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাত-আটটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবং আরও চার-পাঁচটি জেলা বিপর্যস্ত।

এদিকে, শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে ১৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩,৩৩২। মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৩। ফলে শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে চাইছে রাজ্য সরকার। রেলকে চিঠি দিয়ে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এই সময় শ্রমিক ট্রেনে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা অসম্ভব।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রমিক ট্রেনে ঘরে ফিরছেন এ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা। কড়া পর্যবেক্ষণে তাঁদের ঘরে ফেরানো হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে করোনা উপসর্গ থাকার খবর মিলছে বিভিন্ন জেলা থেকে। কোয়ারান্টিনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাঁদের।

উল্লেখ্য, সোমবার নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সব মিলিয়ে প্রায় ২৩৫টি ট্রেনে বাইরের রাজ্য থেকে আটকে থাকা যে মানুষেরা আসবেন, তার সব খরচই বহন করবে রাজ্য