স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিএএ-এনআরসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে শর্তসাপেক্ষে৷ রং-তুলি হাতে প্রতিবাদে নেমে নিজেই একথা জানিয়েছেন তিনি৷

সিএএ’র বিরোধিতায় লাগাতার কর্মসূচিতে নেমেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। কখনও ছাত্র-যুবদের সামনে এগিয়ে দিয়ে, কখনও বা দলের মহিলা নেত্রীবৃন্দ, কখনও আবার শীর্ষ নেতৃত্ব টানা প্রতিবাদ জারি রাখছে। তারই অংশ মঙ্গলবারের নীরব প্রতিবাদ।

এদিন কলকাতার রাজপথে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে রং তুলি হাতে জনা পঞ্চাশেক শিল্পী দেখালেন এনআরসি এবং সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ। রাস্তার উপরেই প্রমাণ সাইজের ক্যানভাসে ফুটে উঠল তাঁদের প্রতিবাদ। রং-তুলি হাতে সৃষ্টিকর্মে মগ্ন মুখ্যমন্ত্রীই এদিনের প্রতিবাদের সূচনা করলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আঁকলেন এক দুখিনী নারীর মুখাবয়ব। যাঁর দু’চোখে জল। জলে ভেসে উঠছে লেখা – N আর O. কপালে লেখা সিএএ. কমলা-সাদা রং ব্যবহার করে আঁকা ছবিটির একদিকে লেখা এনপিআর, আরেকদিকে লেখা এনআরসি। সব নিয়েই চিন্তামগ্ন, ক্রন্দনশীলা সেই নারী।

এদিন প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক পাশের ক্যানভাসেই বেশ তাৎপর্য চিত্র দেখা গেল শিল্পী শুভাপ্রসন্নের। গেরুয়া রঙের একটি মাছের হাঁ-মুখের শিকার হতে চলেছে লাল,নীল অজস্র মাছ। এ ছবিতে স্পষ্টই প্রতিভাত গেরুয়া শিবিরের আগ্রাসী মনোভাব।নরেন্দ্র মোদিকে দৈত্যরূপে বর্ণনা করে ছবি আঁকলেন শিল্পী মনোজ মিত্র। শিল্পী যোগেন চৌধুরী জাতীয় পতাকার রং দিয়ে আঁকলেন কঙ্কালের মুখ। মাঝের অশোক স্তম্ভের সময় নির্দেশক কাঁটাগুলো এখন এলোমেলো হয়ে গিয়েছে, সেটাই তিনি বোঝাতে চাইলেন রেখায়-রঙে।

ছবি আঁকার পর মমতা বলেন, “প্রাণের টানে, রঙের টানে, তুলির টানে প্রতিবাদ করতে এসেছি। আমাদের সবার একটাই কথা, মানুষে মানুষে বিভাজন করার আইন চলবে না। নো ক্যা, নো এনআরসি, নো এনপিআর।” তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন ভাবে এই আন্দোলন জারি রাখতে হবে। কখন ও মিছিল, কখনও মিটিং, কখনও গান আবার কখনও ছবি এঁকে। মনে রাখবেন, রাস্তাতেই আমাদের থাকতে হবে। কারণ রাস্তাই আগামী দিন রাস্তা দেখাবে।” এরপরই প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু আগে আইন তৈরি হয়ে যাবে, তারপর বলবেন আলোচনা করব, সেটা হতে পারে না। আগে এই আইন প্রত্যাহার করুন, তারপর আলোচনায় বসতে রাজি।”

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সেইসময় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ওই বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীকে সিএএ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷