স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে প্রথম ক্ষমতায় এসেই দিঘাকে গোয়া বানানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গত আট বছরে গোয়া না হলেও দিঘার অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি দিঘার সৌন্দর্যায়নে কোনও খামতি রাখতে চাননা৷ মঙ্গলবার কনভেনশন সেন্টারের উদ্বোধনে গিয়ে তিনি আরও একটি নতুন ঘোষণা করলেন৷ জানালেন, আগামী দিনে দিঘার সমুদ্রে সি-প্লেন নামানোর কথা ভাবছেন তিনি৷ সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিঘাতে শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মানের দুটি পার্কিং প্লাজা তৈরি হবে।

২০১৭ সালের ১১ই জুলাই সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত নিউ দিঘায় একটি কনভেনশন সেন্টারের শিলান্যাস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার তার উদ্বোধন করেন মমতা৷ ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হয় বাংলা-ওড়িশার সীমান্ত উদয়পুরের কাছে ফোরশোর রোডের পাশে৷ পাঁচ একর জমি জুড়ে তৈরি হয়েছে এই কনভেনশন সেন্টার৷ বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী, বাণিজ্যিক সম্মেলন আয়োজিত হবে এখানে। অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে লোকে সপ্তাহ শেষে দিঘায় আসত। এখন এভরি ডে ইজ বিজি ডে। লোকে কাশ্মীর যেতে পারছে না। অন্য কোথাও যেতে পারছে না। সবাই দিঘায় আসছে। শর্ট ডিস্টেন্সে বিউটিফুল ডেস্টিনেশন।”

ওই কনভেনশন সেন্টারে শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে আসার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। জানান এখানে রয়েছে ৬৩টি রুম। সম্মেলনের জন্য এলেই ‘কমপ্লিট’ প্যাকেজ মিলবে। তাঁর কথায়, “এটা বুক করলে সমুদ্র ফ্রি। সমুদ্র ফ্রি মানে নিঃশ্বাস ফ্রি। নিঃশ্বাস ফ্রি মানে পরিবেশ ফ্রি। আর পরিবেশ ফ্রি মানেই স্বাস্থ্যশ্রী।” মুখ্যমন্ত্রী এই কনভেনশন সেন্টারের নাম দিয়েছেন ‘দিঘাশ্রী।’উল্লেখ্য, চার তল বিশিষ্ট এই বাণিজ্য কেন্দ্রে একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র আছে এক হাজার বর্গ মিটারের, রয়েছে ৩০০ আসনের একটি আলোচনা কেন্দ্র, আছে সম্মেলন করার জায়গা, এক হাজার আসনের একটি আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ।

তবে সমুদ্রের পাড় যাতে কোনও ভাবেই নোংরা না হয় সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “সমুদ্রের গায়ে যেন স্টল না হয়। কেউ এসে দাবি করল, আর আপনারা করে দিলেন, তা কিন্তু হবে না। ব্ল্যাকমেলিং-এর কাছে মাথা নত করবেন না। পরিবেশ নষ্ট না করে যেন কিছু না হয়। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন।”

দিঘার মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কোনও ট্যুরিস্ট যেন বিরক্ত না হন। লক্ষ্মীকে হাতছাড়া করবেন না। মনে রাখবেন ট্যুরিস্ট এলেই আপনাদের রোজগার হবে। ঘটিভাজা বিক্রি করুন দেখবেন কত ইনকাম। একটা ভেজিটেবলএর দোকান করুন, মোমোর দোকান করুন, দেখবেন কত রোজগার হচ্ছে।”