স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে চেয়েছিলাম। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন মমতা। কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে একথাই জানালেন তিনি।

তবে দল চায়নি বলেই মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘চেয়ারের কোনও লোভ নেই আমার। দলে থেকে কাজ করতে চাই।

সব শেষে বলেন, ‘একটাই শর্তে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে রাজি, যদি সবাই একজোট হয়ে কাজ করে।’

দলের মধ্যেই বিশ্বাসঘাতক রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। তৃণমূলের কেউ কেউ বিজেপির কাছ থেকে টাকা চেয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের সেটিং হয়েছে, এমন অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে অনেক অভিযোগ জানানো হয়েছে, কোনও লাভ হয়নি। সবকিছুই বিজেপির নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ মমতার।

বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েও মমতা বলেন, ‘কিন্তু উগ্র হিন্দুত্ববাদ আমি মানি না। বলেন, ‘সহনশীলতা থাকা উচিৎ। রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মিলবে না।’ আরও বলেন, ‘হিন্দু, মুসলিম, শিখদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি মানব না, তাতে এক থাকতে হলেও থাকব।’

মমতার অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। রাজ্যে এমার্জেন্সির মত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।

সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে বিজেপি জিতেছে বলে দাবি মমতার। তাঁর আরও অভিযোগ পুলিশ অফিসারদের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যে টাকা ঢোকানোর ব্যবস্থা করেছিল বিজেপি।

ফের ৩১ মে বৈঠকে বসবেন তিনি। দলীয় সংগঠনে একগুচ্ছ রদবদল করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ক্যামেরার সামনে আসতে দেখা যায়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাড়ি থেকে বেরোননি তিনি। শনিবার জরুরি বৈঠক ডাকেন কালীঘাটের বাড়িতেই। সব নেতা-নেত্রীদের ডেকে পাঠানো হয়।

সকাল থেকেই একে একে নেতারা আসেন মমতার বাড়িতে। হাসি মুখেই মমতার বাড়িতে ঢোকেন মিমি, নুসরত, শতাব্দীর মত জয়ী প্রার্থীরা।

তবে শোনা যাচ্ছে, অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। জেলার তৃণমূল নেতাদের মধ্যে অনেকেরই দেখা মেলেনি বৈঠকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেই কী আসেননি? নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? তা সময়ই বলবে।