স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ফের মিলে গেল কলকাতা ২৪x৭ এর Exclusive Report৷ এবছরের জানুয়ারী মাসের ৪ তারিখেই কলকাতা ২৪x৭ এ প্রথম প্রকাশিত হয় পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলা নিয়ে প্রথম খবর৷ খবরের সত্যতা প্রমাণ হয়ে আপাততঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত৷

দীর্ঘ সমীক্ষার পর কলকাতার বিবেকানন্দ রোডের পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলার পক্ষেই মত দিয়েছিল রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি৷ নবান্ন সূত্রের খবর, বিশেষ ওই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন খড়গপুর আইআইটির তিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও রাজ্যের তদানীন্তন মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়৷

পড়ুন: পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলার পক্ষেই মত কমিটির

দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে উড়ালপুল ভেঙে ফেলার পক্ষেই মত দিয়েছিল কমিটি৷ সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটির মান পরীক্ষা করে কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটির মান খুবই খারাপ৷ তাই ওখানে ভবিষ্যতে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না৷ তাই নতুন করে ওই এলাকায় সেতু না নির্মাণের পক্ষেই সুপারিশ করেছে কমিটি৷

২০১৬ সালের ৩১ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভেঙে পড়েছিল পোস্তা উড়ালপুলের একাংশ৷ ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের৷ উড়ালপুল নির্মাণের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল৷ ওই ঘটনার পর রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব ও খড়গপুর আইআইটির তিন অধ্যাপককে নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গড়েছিল রাজ্য সরকার৷ সেই কমিটি রাজ্যকে জমা দেওয়া রির্পোটে পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলার পক্ষেই সুপারিশ করে৷

পড়ুন: একনজরে বিশ্বের কয়েকটি ভয়ঙ্করতম উড়ালপুল দুর্ঘটনা

পূর্ত দফতর সহ রাজ্যের বিভিন্ন দফতর ও বর্তমান মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষব্যক্তিরা কমিটির সেই সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিয়ে পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলার পক্ষেই সবুজ সংকেত দিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই সমস্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, আর কোন রাস্তা নেই৷ পোস্টা উড়ালপুল ভেঙে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায়ই নেই৷ রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পোস্তা ব্রিজ এখন ক্ষয়িষ্ণু ও দুর্বল৷ এই উড়ালপুল দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভবই নয়৷ এভাবে ফেলে রাখাও বিপদজনক৷ তাই বাধ্য হয়ে ফ্লাইওভারটা ভেঙে ফেলতেই হবে৷

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই এই নিয়ে মুখ্যসচিব ও অন্যান্য আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই বৈঠকের পরই পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারেন মমতা৷ কোটি কোটি টাকা ও কোটি কোটি শ্রমদিবস নষ্ট হবার জন্য কার কার শাস্তি হবে? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে৷