কলকাতা: ষষ্ঠ বেতন কমিশনকে আগেই মান্যতা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সরকারি কর্মীদের জন্য আরও সুখবর। সব ভাতাই বাড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শাসক দলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’য় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন পে কমিশনের প্রস্তাবের। পে কমিশন যা প্রস্তাব দিয়েছিল, সব ক্ষেত্রেই কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে বেশি করে ছাড় দিয়েছেন তিনি।

তিন বছর আগের হিসেবেই বেতন কাঠামো বাড়ছে রাজ্য সরকারের কর্মীদের। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বেসিক ও ডিএ-র তিন শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বেতনে। প্রতি বছরের হিসাবেই এভাবে তিন শতাংশ ‘নোশনাল এফেক্ট’ ধরা হচ্ছে। এছাড়াও স্বাভাবিকভাবেই ১২৫ শতাংশ ডিএ যুক্ত করে ২২৫ শতাংশ করা হয়েছে। মূল বেতনের ক্ষেত্রে এই ২২৫ শতাংশের ১৪.২২ শতাংশ যুক্ত হওয়ার পর হচ্ছে ২৫৬ টাকা। এর সঙ্গে ২০১৬ থেকে তিন শতাংশ ২৮০.৯। আগে ঠিক ছিল, মূল বেতন ২.৫৭ গুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে নবান্নে ক্যাবিনেটের পর জানিয়ে দেওয়া হল, মূল বেতন হচ্ছে ২.৮০৯ গুণ।

আগেই জানানো হয়, রাজ্য সরকারি কর্মীর ন্যূনতম বেতন বেড়ে ১৭ হাজার ৯৯০ টাকা হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গ্রাচুইটির ঊর্ধ্বসীমা ৬ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১০ লক্ষ টাকা হবে। রাজ্য সরকারি কর্মী ছাড়াও পুরসভা এবং পঞ্চায়েত কর্মী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং ৬০টির বেশি স্বয়ংশাসিত ও সরকারি সংস্থার কর্মীরা বেতন কমিশনের সুপারিশের সুফল পাবেন।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকারি কর্মচারী গ্রহণ করার কথা জানান। কিন্তু সেদিন বাড়ি ভাড়া ভাতা নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র নবান্নে জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী সুপারিশের থেকেও অনেক ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা দিয়েছেন কর্মীদের

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশন বাড়ি ভাড়া ভাতা ১২ শতাংশ হারে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। সর্বোচ্চ ভাতার মাপকাঠি ছিল ১০৫০০ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী তা ১২ হাজার পর্যন্ত করার অনুমোদন দিয়েছেন। তেমনভাবেই গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা কমিশনের সুপারিশের ১০ লক্ষের বদলে হচ্ছে ১২ লক্ষ টাকা। আগে ছিল ৬ লক্ষ টাকা। নন-প্র্যাকটিসিং ডাক্তারদের ক্ষেত্রে বেসিক ও ভাতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ এক লক্ষ ৯০ হাজারের জায়গায় হচ্ছে দু’লক্ষ এক হাজার টাকা। স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় নেই যাঁরা তাঁদের মেডিক্যাল অ্যালাউন্স মাসে ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৫০০ টাকা। নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে চিকিৎসায় দু’হাজার টাকার বদলে এবার মিলবে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ‘ওভারটাইম’-এ ২৫০ টাকার জায়গায় মিলবে ৩০০ টাকা। পুল কারে মেক্যানিকাল কর্মীদের টিফিন খরচ প্রতি ঘণ্টায় দশ টাকা ছিল। সরকার দেবে ঘণ্টা পিছু ৩০ টাকা। কর্মদিবসের ক্ষেত্রে ৬০ টাকার জায়গায় এবার দেওয়া হবে ১৮০ টাকা। প্রোটোকলের কাজে যুক্তদের ৫০০ থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা।