কলকাতা: এবার দুর্গাপুজোয় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ দুর্গাপুজো আয়োজক কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার৷ এছাড়া ছাড় দেওয়া হয়েছে দমকল ফি ও টেস্ক৷

বৃহস্পতিবার শারদীয়া উৎসব উপলক্ষে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রশাসনিক ও সমন্বয় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, করোনা পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার৷

এছাড়া পুজো কমিটিগুলি থেকে এবার কোনও দমকল ফি নেওয়া হবে না৷ দিতে হবে না টেস্ক৷ ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন বা সিইএসসি এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ (ডব্লিউএসইবি) এর ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মমতা৷

যে সব পুজো কমিটিগুলি ১০ বছর ধরে পুজো করে আসছে অথচ এখনও সরকারি অনুমতি পায়নি, তাদের অনুমতি দেওয়া যায় কিনা,সে বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আগামী ২ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে৷

জানা গিয়েছে,রাজ্যে ২৮ হাজার অনুমোদিত পুজো কমিটি রয়েছে৷ কলকাতায় রয়েছে ৩ হাজার৷ পুলিশকে নজরে রাখতে হবে৷ একই দিনে সব ঠাকুর যাতে বিসর্জন না হয়৷ তাছাড়া ঘাটে ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে৷ পাশাপাশি স্যানিটাইজ রাখতে হবে৷ এবছর তৃতীয়া থেকে একাদশী পর্যন্ত ঠাকুর দেখা যাবে৷

কিছুদিন আগেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলি খোলামেলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ একইসঙ্গে মণ্ডপে একসঙ্গে অনেক দর্শক যাতে ঢুকে না পড়েন, সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দুর্গাপুজো আয়োজক কমিটিগুলিকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ এবার এক লাফে সেটা বেড়ে হল ৫০ হাজার টাকা৷

অন্যদিকে কিছুদিন আগে রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র সব সিপি ও এসপিকে দুর্গাপুজো নিয়ে একটি নির্দেশিকা দিয়েছেন৷ সেখানে বলা হয়েছিল,স্থানীয় থানার পুলিশকে সেখানকার প্রত্যেক পুজো কমিটির সঙ্গে কথা বলতে হবে৷ তারপর নবান্নকে রিপোর্ট দিতে হবে, করোনা আবহে পুজো কমিটি কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে৷

এবছর প্রত্যেক থানার ওসি বা আইসিরা তাঁদের এলাকার পুজো কমিটি গুলোর সঙ্গে কথা বলবেন৷ পুজো কমিটিগুলির কাছ থেকে তাঁরা বেশ কিছু বিষয় জানতে চাইবেন৷

বিশেষ করে,কীভাবে তাঁরা পুজোর প্ল্যানিং করছেন৷ স্যানিটাইজারের কী ব্যবস্থা রয়েছে?সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?অঞ্জলি দেওয়ার কী ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে?এককথায় করোনাবিধি মেনে পুজো হচ্ছে কিনা তার খোঁজ নিয়েছে পুলিশ৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।