স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনে তুমুল গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল৷ বড়সড় ধস নেমেছে তাদের উত্তরবঙ্গের ভোটব্যাংকে। জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং লোকসভার পাশাপাশি দার্জিলিং বিধানসভা উপনির্বাচনেও বড় ব্যবধানে হেরেছে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থী। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ক্ষোভ প্রকাশ পেল শুক্রবার কোর কমিটির বৈঠকে৷

উত্তরবঙ্গে হাসছে বিজেপি। সাফ ঘাসফুল। লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে উত্তরবঙ্গে ৫৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪১ টিতেই পিছিয়ে তৃণমূল। ৩৭ টিতে এক নম্বরে রয়েছে বিজেপি। দক্ষিণবঙ্গেও গর্ব করার মতো তেমন ফল করেনি তৃণমূল৷ অথচ আর দুবছর পরই বিধানসভা নির্বাচন৷ এই পরিস্থিতিতে দলে জোর ঝাঁকুনি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ভোটের পর প্রথম শুক্রবার কোর কমিটির বৈঠক ডাকেন তিনি৷ সেখানেই মালদহ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব শুভেন্দুর হাত থেকে সরিয়ে গুলাম রব্বানি ও সাধন পান্ডেকে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলের হাত থেকে সরিয়ে নদিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সবমিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর দায়িত্ব বাড়িয়েছেন নেত্রী৷

মন্ত্রিসভার রদবদলের পর দায়িত্ব বেড়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। পরিবহণের পাশাপাশি , সেচদফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। গত শনিবার ভোট পরবর্তী রিভিউ কমিটির বৈঠকে তাঁকে জঙ্গলমহলের দায়িত্ব দেওয়া হয়৷এদিন কোর কমিটির বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে দলের মুখপাত্রও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নেত্রীর আস্থা, ভরসা যে এখন শুভেন্দু অধিকারী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অন্যদিকে, এদিনের বৈঠকে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপর উষ্মাপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ভালো করে কলকাতা দেখতে বলেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের রোজ তৃণমূল ভবনে গিয়ে বসার নির্দেশ দেন। রোজ তৃণমূল ভবনে বসার জন্য তৈরি হয়ে রোস্টারও। সেই ‘রোস্টার’ অনুযায়ী সোমবার তৃণমূল ভবনে বসবেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বসবেন শুভেন্দু অধিকারী, বৃহস্পতিবার সুব্রত মুখোপাধ্যায় আর শুক্রবার বসবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধায়। জেলার নেতাদেরও প্রতিদিন পার্টি অফিসে গিয়ে বসার নির্দেশ দেন মমতা৷ সাধারণ মানুষের জনসংযোগ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি৷

এদিন উত্তরবঙ্গের ফলাফল নিয়ে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা৷ দার্জিলিংয়ের দায়িত্বে থাকা অরূপ বিশ্বাসেও এদিন ধমক খেতে হয়েছে৷ অরূপের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “তোর অনেকগুলো জেলার দায়িত্ব ছিল৷ যাদবপুর আর বর্ধমানের একটা ছাড়া বাকি সবগুলোতে ‘ডাঁহা ফেল’ করেছিস৷”

উল্লেখ্যে আগের দিনের বৈঠকেও ক্রীড়া ও যুবকল্যান দফতরের মন্ত্রী অরূপকে দিদি বলেছিলেন, “ক্লাবগুলোকে তো এত টাকা দিলি৷ কিন্তু লাভ কি হল? সব ভোট তো বিজেপিতে গেল৷”তবে অরূপকে যাই বলুন দিনি উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব থেকে অরূপকে সরাননি৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, অরূপের মতো ঘনিষ্ঠবৃত্তে থাকা নেতাকে যদি মমতা এই কথা বলেই থাকেন, তাহলে তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন দিদির ধমক খেতে হয়েছে উত্তরবঙ্গের আরএক নেতা গৌতম দেবকেও। প্রসঙ্গত, তাঁর নিজের বিধানসভা ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূল এ বার পিছিয়ে পড়েছে প্রায় ৯০ হাজার ভোটে।

তবে এদিন মমতা দলীয় নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “চিন্তা করবেন না৷ আমরা ঠিক আবার আগের জায়গা ফিরে পাব৷” সেইসঙ্গে কারা কারা বিজেপিতে যাচ্ছে তার তালিকা সমস্ত জেলার নেতাদের জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী৷