সুমন বটব্যাল, কলকাতা: সদ্য সমাপ্ত ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহলের বিস্তৃর্ণ এলাকায় শাসকদলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ হিসেবে বিভিন্ন মহল থেকে দলীয় অন্তর্ঘাতের প্রশ্ন তোলা হয়েছিল৷ বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে পঞ্চায়েতের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কার্যত সেই ‘দলীয় অন্তর্ঘাত’ এর তথ্যকেই মান্যতা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

মমতার আক্ষেপ, ‘‘২ টাকা কিলো চাল থেকে সবুজসাথী – প্রতিটি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জঙ্গলবাসীর কাছে৷ তবু তাঁরা আমাদের দিক থেকে মুখ ফেরালেন কেন? খোঁজ নিয়ে দেখেছি, কিছু স্থানীয় নেতার দাম্ভিকতা মানুষ মেনে নেইনি৷ তাছাড়া আমাদের কিছু লোক কাজ করেনি, আবার অন্যদের কাজও করতে দেইনি৷’’ একই সঙ্গে নিজের অতীতের অভিযোগেও অনড় থেকেছেন দলনেত্রী, ‘‘বিজেপি প্রচুর টাকা ছড়িয়েছে৷ মদ, মাংস দিয়ে জঙ্গলমহলের ভোট কিনছে বিজেপি৷’’

জঙ্গলবাসী মুখ ফেরানোয় এদিনই সেখানকার দায়িত্ব দলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেন দলনেত্রী৷ একই সঙ্গে জঙ্গলমহলে শোচনীয় পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে দলের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, জেলা নেতা দীনেন রায় সহ ৫ জনের কমিটি গড়ে দিয়েছেন৷ ৭ দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রির্পোট জমা দিতে বলা হয়েছে৷

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ হীন জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম, লালগড়, বেলপাহাড়ির মতো একাধিক এলাকায় শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকট হয়েছে৷ তারই প্রভাব পড়েছে পঞ্চায়েতের ভোট ব্যাংকে৷ অন্যদিকে পালাবদলের বাংলায় মাটির কুঁড়ে ঘর থেকে রাতারাতি দো-তলা বাড়ি কিংবা সাইকেলের পরিবর্তে বাইক, নেতাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন মেনে নেননি জঙ্গলবাসী৷ তার ওপর প্রার্থীপদের দাবিদার ছিলেন অনেকে৷ কিন্তু সিংহভাগই টিকিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন৷ এমনকি বহুক্ষেত্রে গোষ্ঠীবাজির জেরে যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ৷

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।