নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: ২৩ মে ভোটের রেজাল্ট বেনো পর থেকেই কার্যত চুপচাপ মমতা। ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরতে দেখা যায়নি। শুধু একটা ট্যুইট ছাড়া আর কোনও প্রতিক্রিয়াই নেই তৃণমূলনেত্রীর। স্তব্ধতা না ভাঙলেও ভোটের পরের দিন একটি কবিতা পোস্ট করলেন তিনি।

কবিতার শিরোনাম ‘মানি না’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিসত্বার পরিচয় আগেও পাওয়া গিয়েছে। তবে এবারেরটা যে নিছক কবিতা নয়, সেটা স্পষ্ট। শুক্রবার সেই কবিতা তিনটি ভাষায় ট্যুইট করেছেন তৃণমুলনেত্রী।

কবিতার শুরুতেই লেখা আছে, ‘সাম্প্রদায়িকতার রঙ আমি বিশ্বাস করি না।’ যে মমতা বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার আভিযোগ তুলে এসেছেন, ফলাফলের পরের দিন এই কবিতার মাধ্যমে যে তিনি গেরুয়া শিবিরকে বার্তা দিতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট।

লোকসভার ফলাফলে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের বাড়-বাড়ন্ত বেশ প্রকট। যেখানে মমতার আশা ছিল, ৪২-এ মিলবে ৪২, সেখানে আসন কম হয়েছে ২০। ২২টি আসন পেয়েছে তৃণমূল, আর বিজেপি ১৮টি। স্বাভাবিকভাবেই এই অপ্রত্যাশিত ফল তৃণমূল শিবির তথা মমতার কাছে বড় ধাক্কা।

যে বিজেপিকে ভোট প্রচারে গিয়ে উদয়াস্ত আক্রমণ করে গিয়েছেন, সেই বিজেপি এভাবেই রাজ্যে এন্ট্রি নিচ্ছে, তা মেনে নিতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বিজেপি নেতারা বারবার দাবি করছেন, একগুচ্ছ বিধায়ক নাকি দল পাল্টে চলে যাবে বিজেপিতে। এই পরিস্থিতিতে একেবারে শুনশান হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট। এরই মধ্যে পোস্ট হল কবিতা।

বার্তা যে শুধু রাজ্য বিজেপিকে নয়, জাতীয় স্তরে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তাঁর বক্তব্য তা হিন্দি ও ইংরেজিতে কবিতা পোস্ট করতে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

কবিতায় মমতা লিখেছেন, ”ধর্ম বিক্রি যাদের তাস, ধর্ম পাহাড়ে টাকার বাস?” আর ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে আগে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বারবার যিনি জোর গলায় বলেন, যে তিনি সব ধর্মে বিশ্বাস করেন, সেই মমতা এই কবিতার মাঝে লিখেছেন, ‘বিশ্বাস করি মানবিকতার আলোকে আলোকিত ধর্ম।’

মুখে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও ‘মানি না’ কবিতাতেই মমতা বুঝিয়ে দিলেন গেরুয়া শিবিরের এই জয় তিনি বরদাস্ত করবেন না।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.