কলকাতা: করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অনেক আগে থেকেই সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ক্রমবর্ধমান করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ভয় বাড়াচ্ছে। বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২। এই পরিস্থিতিতে তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা। স্বাভাবিক জনজীবন থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে এই টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র থেকে এখনও কোনও সাহায্য এসে পৌঁছয়নি, এমনটাই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার সংবাদসংস্থার মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় স্টেট রিলিফ ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। সাড়ে সাত কোটি মানুষ এই পরিস্থিতিতে ২ টাকা কিলোর চাল পাবেন বলেই জানা গিয়েছে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ এনেছেন যে মাস্ক-স্যানিটাইজার নিয়ে কালোবাজারি চলছে তা ঠেকাতে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজার এবং মেডিক্যাল সামগ্রী কেন্দ্রের তরফে কিছুই দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, পরিস্থিতি সামাল দিতে দুইলক্ষ মাস্ক, দুই লক্ষ বিশেষ পোশাক, ১০হাজার থার্মাল স্ক্রিনিং মেশিন এবং ৩০০ ভেন্টিলেশন মেশিনের অর্ডার দেওয়া হয়েছে৷ এরমধ্যে ৭০টি ভেন্টিলেশন মেশিন রাজ্যে সরকারের কাছে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকীগুলি এসে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে৷

এদিন বিকেলে ওই বৈঠকে শুরুতেই রাজ্যে আইসোলেশন বেড বাডা়নোর সিদ্ধান্তের কথা৷ বেলেঘাটা আইডি-তে ২২টি থেকে বাড়িয়ে ১০০টি আইসোলেশন বেডে করা হচ্ছে বলে তিনি জানান৷ এছাড়াও বাঙ্গুরে হাসপাতাল সংলগ্ন নতুন বিল্ডিংএ ১৫০টি আইসোলেশন বেড করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ এটিকে বাঙ্গুরের মূল হাসপাতাল থেকে আলাদা করে রাখার কথা বলেছেন তিনি ৷ তাই এদের জন্য অন্য আলাদা গেটের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে ৷

এছাড়া আরজিকরে আরও ৫০টি হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ তাছাড়াও নিউটাউন-রাজারহাটে চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসাপাতালে নতুন বিল্ডিং রয়েছে সেখানেও আরও ৫০০টি আইসোলেশন বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও এদিন জানিয়েছেন তিনি৷

বেলেঘাটা আইডি হাসপাতেলের চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে৷ বেলেঘাটা আইডি-তে রাখা হচ্ছে কয়েকটি স্যানিটাইজ অ্যাম্বুল্যান্স৷ আইডি-তে রোগীরা এলে তাকে তৎক্ষনাৎ ভর্তির প্র্য়োজন হলে অথচ সেখানে বেড না থাকলে তখন ওই অ্যাম্বুল্যান্স করে সেখান থেকে রেফার করে অন্য হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প