ফাইল ছবি৷

স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: রাত পোহালেই তৃতীয় দফায় রাজ্যের ৫ কেন্দ্রে নির্বাচন৷ রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে প্রচার করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোমবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, দেওয়ানদিঘি ও রায়নায় নির্বাচনী প্রচার করেন তিনি৷ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এদিন তিনি বিরোধী বিজেপিকে নিশানা করেন৷ মোদী-শাহ জুটিকে জগাই-মাধাই কটাক্ষের সঙ্গে এদিন দার্জিলিংয়ের বিদায়ী সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকেও আক্রমণ করেন মমতা৷ তাঁর দাবি, আলুওয়ালিয়া গুরুং এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাহাড়কে অশান্ত করেছে৷ বিদায়ী সাংসদ সন্ত্রাসবাদ গুরুং-এর বন্ধু৷

এবারের লোকসভা ভোটে দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে টিকিট পাননি আলুওয়ালিয়া৷ দার্জিলিং-এ এবারে মণিপুরের ছেলে রাজু বিস্তাকে প্রার্থী করে নিয়ে আসে বিজেপি৷ বিজেপি সূত্রে খবর, আলুওয়ালিয়া নিজেই এবার দার্জিলিং থেকে ভোটে লড়তে চাননি৷ তাই তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়৷ মজার বিষয় এই কেন্দ্রেই আলুওয়ালিয়ার আবার শ্বশুর বাড়িও৷ সেই অর্থে তিনি এখানকার জামাই৷ তাই এই কেন্দ্র থেকে জামাই হিসেবে তিনি বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে আশাবাদী বিজেপির আলুওয়ালিয়া৷

কিন্তু এদিন পূর্ব-বর্ধমানে ভোট প্রচারে গিয়ে বিজেপি প্রার্থীর সেই আশায় কার্যত জল ঢাললেন তৃণমূল নেত্রী৷ মমতার কথায়, ‘দার্জিলিং থেকে পালিয়ে আসানসোলে এসেছেন বিজেপি প্রার্থী৷ এখানে নাকি ওনার শ্বশুরবাড়ি, উনি এখানকার জামাই৷ তা আগে তো কোনওদিন দেখিনি বাপু৷ ভোটের সময় শ্বশুরের কথা মনে পড়েছে?’ মমতার প্রশ্ন, ‘শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে রাজনীতির কি যায় আসে? বর্ধমানে আগুন লাগাতে দেব না৷’

বর্ধমান-দুর্গাপুরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মুমতাজ সংঘমিত্রা৷ তিনি বর্ধমানের বাসিন্দা৷ হাতের তালুর মত চেনা তাঁর গোটা এলাকা৷ তাই বর্ধমানবাসীর কাছে মমতার আবেদন, কোনও বহিরাগতকে ভোট না দিয়ে আপনাদের ঘরের মানুষকে জিতিয়ে আনুন৷ মুমতাজ সংঘমিত্রা পার্লামেন্টে ভালো কাজ করেছেন৷ পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী আলুওয়ালিয়াকে একটি ভোটও না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী৷ এনআরসি-র প্রসঙ্গ টেনে মমতার দাবি, বিজেপি প্রার্থী ভোটে জিতলে দেশকে ভাগ করে দেবে৷ দাঙ্গা লাগাবে৷ বর্ধমানে আগুন জ্বলবে৷ কিন্তু আমরা দাঙ্গা চাই না৷ শান্তি চাই৷ দেশকে ভাগ হতে দেব না৷