স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উপনির্বাচনে ‘হ্যাটট্রিক’ করেছে তৃণমূল৷ অভাবনীয় এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে বিজেপির ‘ঔদ্ধত্য ও অহংকার’-এর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই জয় রাজ্যের মানুষকে উৎসর্গ করেছেন। একইসঙ্গে এই জয়কে বাংলার সম্প্রীতি ও একতার জয় বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুর থেকে গিয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বৃহস্পতিবার কালিয়াগঞ্জে প্রাথমিক ভোটগণনায় এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু ক্রমশ পিছিয়ে পড়েন তিনি। চূড়ান্ত গণনায় ২৩০৪ ভোটে জিতে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী তপন সিংহ। খড়্গপুরে কংগ্রেসের সোহন পাল সিংকে হারিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। ওই কেন্দ্রে কার্যত প্রেস্টিজ ফাইটে নেমেছিল তৃণমূল। সেখানেও এসেছে সাফল্য। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,‘‘তৃণমূলের ২১ বছর হল। কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুর কোনওদিন পাইনি। এটাও আমরা পেয়েছি। জাতি, ধর্ম জোট বেঁধে হারিয়ে দিয়েছে বিজেপিকে।মানুষের রায়ই বড় রায়, তার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। ’’

মমতা বলেন, এনআরসি নিশ্চিতভাবে কাজ করেছে। তবে একটা একটা জায়গায় একেক রকম ইস্যু রয়েছে। লোকসভায় কালিয়াগঞ্জে রাজবংশীরা ভোট দেয়নি। তখন প্রাইভেট অপারেটরদের দিয়ে ইভিএমের কাজ করানো হয়েছিল। করিমপুরে অর্ধেক উদ্ধাস্তু হিন্দু ও মুসলিম। খড়্গপুরের মানুষও বুঝতে পেরেছে। সবাই আমাদের ভোট দিয়েছে। এটাও একটা কম্বিনেশন। রাজবংশী, আদিবাসী, মুসলিম, হিন্দু-সবাই মনে করে সর্বধর্ম সমণ্বয় করতে পারবে একমাত্র তৃণমূল। অবাঙালিরাও বাংলায় ভালো আছেন। তাঁরাও শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সুবিধা পাচ্ছেন। সবার ভোট পেয়েছি। এটা সবচেয়ে বড় জয়। উপনির্বাচন হলেও গুরুত্বপূর্ণ।”

মাত্র ৫ মাস আগে লোকসভা ভোটের নিরীখে খড়্গপুর এবং কালিয়াগঞ্জ, দুই কেন্দ্রেই বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বিজেপি। খড়্গপুরে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এগিয়ে ছিলেন ৪৫ হাজার ১৩২ ভোটে। অন্য দিকে রায়গঞ্জ লোকসভার অন্তর্গত কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী এগিয়ে ছিলেন ৫৬ হাজার ৭৬২ ভোটে। এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের জয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘এত বিপুল ব্যবধান অতিক্রম করে জেতাটা বিরাট ব্যাপার। এটা দলের কর্মীদের একাগ্রতা এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখার ফসল।’’

মমতা বলেন, ‘‘ওদের ঔদ্ধত্য, অহংকারকে মানুষ ভাল ভাবে নেয়নি। যখন তখন যে কোনও রাজ্যে যা খুশি করছে। বিজেপি কখনও এনআরসি, কখনও অন্য কিছু নিয়ে যা খুশি প্রচার করছে। এই মানুষরাই দীর্ঘ দিন ধরে ভোট দিয়েছেন, এমপি-এমএলএ বানিয়েছেন, সমস্ত কাজ করেছেন। আর এখন ওরা (বিজেপি) বলছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে।’’ এর সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতির খারাপ হাল। মানুষ কাজ পাচ্ছেন না, উল্টে কাজ হারাচ্ছেন। যুব সমাজের কাছে কোনও দিশা নেই।’’

এদিন সকাল থেকেই বাড়িতে বসে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে টেলিফোনে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছিলেন দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কারণ, শুভেন্দু উত্তর দিনাজপুর তথা কালিয়াগঞ্জ এবং পশ্চিম মেদিনীপুর তথা খড়্গপুর সদর আসনের পর্যবেক্ষক। তিন আসনেই তৃণমূলের জয় যে অনিবার্য তা আন্দাজ করেই তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান দিদি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ