স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বুলবুলের ত্রাণ ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও ত্রান ও সহায়তা খাতে এখনও এক পয়সাও দেয়নি কেন্দ্র৷

সোমবার বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক গীতারানি ভুঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বুলবুলে বিপর্যস্ত কৃষকদের সাহায্যে রাজ্য ইতিমধ্যেই ১২০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এরপরই কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘বুলবুল ধাক্কা দেওয়ার পরের দিন প্রধানমন্ত্রী টুইট করেছিলেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছিলেন। কিন্তু এখনও কেন্দ্রীয় সাহায্য কিছু আসেনি।’’ তিনি জানান, রাজ্য কেন্দ্রের কাছে ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দাখিল করেছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসেব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ হাজার হেক্টর চাষের জমি নষ্ট হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুরে সর্বত্র পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। ধান সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়েছে। তবে বুলবুলের জেরে ধানের জোগান নিয়ে আশঙ্কার কারণ নেই বলেও এ দিন আশ্বস্ত করেন মমতা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি বাংলা আবাস যোজনার মাধ্যমে করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। একটু সময় লাগবে। যাঁদের চাষের জমি নষ্ট হয়েছে, তাঁরা শস্য বিমার সুবিধা পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত পানের বরজের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে সাহায্যের কথা ভাবা হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, স্থানীয় ছেলেমেয়েদের ১০০ দিনের কাজে নিয়োগ করে পুকুর সাফ, গাছ সরানো ইত্যাদি করানো হচ্ছে।

গত ১৫ নভেম্বর বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। দু’দলে ভাগ হয়ে তারা যায় দুই ২৪ পরগনায়। কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা কথাও বলেন ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে রাজ্যে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা৷ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধদলকে রিপোর্টে জানায় রাজ্য৷ রিপোর্টে নবান্ন জানায়, বুলবুলে রাজ্যে ৩৫ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ প্রায় ৫ লক্ষ ১৮ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত৷ প্রায় ১৫ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ বিদ্যুত্‍ সংক্রান্ত ক্ষতির পরিমাণ ৫৯৭ কোটি টাকা৷ সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ শুনে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, সরকার সর্বদল বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দিলে তাঁরাও কেন্দ্রের কাছে দরবার করবেন। এব্যাপারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও তাঁর আধিকারিকদের দেওয়া হিসেব— দু’টো আলাদা। তাই কেন্দ্র হয়তো ঘাবড়ে গিয়েছে।’’