স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস, দুই ভাই-ই দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুব কাছের ছিলেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুই ভাইকে নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে বার করে দিলেন মমতা! এমনটাই মত রাজনৈতিকমহলের।

বৃহস্পতিবার দলে বড়সড় রদবদল করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সাত সদস্যের কোর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন শান্তা ছেত্রীও। সঙ্গে রয়েছেন সুব্রত বক্সি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে কোর কমিটিতে থাকলেও এবার বাদ দেওয়া হয়েছে খোদ অরূপ বিশ্বাসকে। একসময় যাকে ‘দিদি’র কাছের লোক বলে মনে করা হত। এদিনের পর থেকে সংগঠনে তিনিই ব্রাত্য।

এদিকে, দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল যুব সংগঠনের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে। কিন্তু দিদির হঠাৎ হলটা কি? দলীয় সূত্রে খবর, লোকসভা ভোটের রেজাল্ট বেরোনোর পর থেকেই অরূপের উপর চোটে ছিলেন মমতা। দলের খারাপ ফলের কারণ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় সবার সামনেই তৃণমূলনেত্রীর কোপের মুখে পড়েছিলেন অরূপ। কারণ উত্তরবঙ্গের যে সব জেলায় সংগঠনের অরূপ দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে হেরে গিয়েছে তৃণমূল।

তাঁর হাতে থাকা হুগলির একটি এবং দুই বর্ধমানের দুটি আসনে হেরেছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। এই ফলের উল্লেখ করে মমতা অরূপকে বলেছিলেন, ‘‘এতগুলো জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ভাল করে কাজ কর। যখনই জিজ্ঞেস করেছি, বলেছিস, সব ঠিক আছে। কিন্তু একেবারে ফেল করলি।’’ অরূপের দায়িত্বে থাকা দার্জিলিং সম্পর্কেও সব তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব থেকে অরূপকে সরিয়ে দেন মমতা। এরপর থেকেই অরূপ-মমতার দূরত্ব বাড়ে বলে খবর।

জানা গিয়েছে, টালিগঞ্জ পাড়ার সমস্যা নিয়েও ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কদিন আগে নবান্নে তাঁর সামনেই ঝগড়া হয় আর্টিস্ট ফোরাম ও টেকনেশিয়ানদের। কাজ না করেই টাকা নিচ্ছেন টেকনেশিয়ানরা, এই অভিযোগের পাল্টা ক্ষোভ উগড়ে দেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। ওইসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মাথা ঠাণ্ডা করে কথা বলো স্বরূপ।”

শুধু তাই নয়, টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেও শোনা যাচ্ছিল, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জন্যই অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা গেরুয়া শিবিরে চলে যাচ্ছেন। বিধানসভা ভোটের আগে সেইসব ক্ষতস্থানে প্রলেপ দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠদের দূরে সরিয়ে কড়া বার্তা দিলেন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও