ডিস্ট্রিক্ট নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে হেভিওয়েটদের প্রচারের শুরুতেই একই দিনে মোদী-মমতা ডুয়েল দেখেছেন রাজ্যবাসী৷ এবার দেখবেন মমতা-রাহুল দ্বৈরথ৷ আজ উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে সভা করবেন কংগ্রেস সভাপতি৷ তার আগে জেলার চোপড়ায় নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তব্য রাখবেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

এর আগে মালদহের চাঁচলে সভা করেছিলেন রাহুল গান্ধী৷ সেখান থেকেই তৃণমূল ও বামেদের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি৷ হাত ছেড়ে জোড়াফুলে যাওয়া মৌসমকে বিশ্বাসঘাতক বলেছিলেন৷ জবাবে রাহুল গান্ধীকে তেমন আক্রমণ না করলেও প্রচারে কংগ্রেসকে তীব্র বাক্যবাণে বিঁধতে ছাড়ছেন না তৃণমূল নেত্রী৷ গেরুয়া বিরোধী জোট সরিয়ে বুধবার বিজেপি বিরোধী দুই শিবিরের প্রধানরা একে অন্যকে বিঁধতে তূণ থেকে কী তাস বার করেন তার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহলের কৌতুহল রয়েছে৷

প্রথম পর্যায়ে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভোট৷ সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে রাহুল গান্ধীকে কোচবিহার বা আলিপুরদুয়ারে সভা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি৷ বদলে প্রিয়রঞ্জণ দাশমুন্সীর খাস তালুককেই রাহুল বেছেছেন সভার জন্য৷ এই রায়গঞ্জ আসন ছাড়া নিয়েই নিয়েই বামেদের সঙ্গে বিরোধ হয় কংগ্রেসের৷অনেকেই মনে করছেন বামেদের বার্তা দিতেই কংগ্রেস সভাপতির এই পদক্ষেপ৷

মহম্মদ সেলিম রায়গঞ্জ কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী। কেরেলার ওয়ার্নাড়ে মনোনয়ন দাখিলের পর রাহুল গান্ধী বলেছিলেন সিপিএম বিরুদ্ধে তিনি একটি কথাও বলবেন না। এখন দেখার রায়গঞ্জে প্রচারে গিয়ে বামেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কীভাবে আক্রমণ শানান।

এদিকে বাংলায় পদ্মের বাগান গড়ার লক্ষ্যে অবিচল নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা৷ সেইকারণেই বারবার এখানে ছুটে আসছেন তাঁরা৷ মোদী-শাহকে টেক্কা দিতে বাংলায় বাড়তি নজর দিচ্ছেন রাহুল গান্ধীও৷ গত ২৩ মার্চ মালদহের চাঁচোলে সভা করেছেন তিনি৷ সভায় ভিড় দেখে রীতিমত উছ্বসিত ছিলেন রাহুল৷

হেলিকপ্টারে নামার সময়ই নিজের মোবাইলে সেই ভিড়ের ছবি তুলেছেন তিনি৷এমনকি কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহারের মলাটেও মালদহের জনসভার ভিড়ের ছবি ছাপা হয়েছে৷ কিন্তু মোদী বিরোধীতায় কি নতুন কিছু শোনাবেন তিনি? জল্পনা রাজনৈতিক মহলের৷

 

প্রচারে টানা উত্তরবঙ্গে ব্যস্ত তৃণমূল সুপ্রিমো৷ আক্রমণের লক্ষ্য শুধুই বিজেপি। কিন্তু মঙ্গলবার একদা কংগ্রেসের দাশমুন্সী পরিবারের গড় রায়গঞ্জে গিয়ে হাতের মুঠো আলগা করতে আহ্ববান জানান মমতা৷ ইসলামপুরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা একা লড়ে যাচ্ছি বিজেপি-র বিরুদ্ধে। কংগ্রেস-সিপিএম ভয় পাচ্ছে। এরা সব এক৷”

২০১৪ সালে প্রবল তৃণমূল ঝড়েও রায়গঞ্জে ঘাসফুল ফোটেনি৷ ওই আসনের পুরসভা ও পঞ্চায়েতেগুলি তৃণমূলের দখলে থাকলেও জয় নিশ্চিৎ নয় রাজ্যের শাসক দলের৷ চতুর্মুখী লড়াইয়ে বিজেপি এবার ফ্যাক্টর সেখানে। তাই মমতার লক্ষ ইভিএমে সংখ্যালঘু ভোট একত্রিত করা৷ একই সঙ্গে তৃণমূলের কড়া সমালোচক প্রিয় জায়া কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সীকে আটকানোও লক্ষ্য মমতার৷ যার হয়ে প্রচারে এদিন আসছেন রাহুল গান্ধী৷