ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: মাঠ ভরতি লোক৷ ভরা মাঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে পরিচিত ঢঙেই প্রশ্ন করলেন দিদি৷ কিন্তু দর্শক নীরব৷ এবার প্রশ্ন এলো হিন্দিতে৷ তাতেও মিলল না সাড়া৷ অবাক মমতা৷ খনিকের বিস্ময় সামলে তৃণমূল সুপ্রিমোর দোহাই, ‘ভয় পাচ্ছেন নাকি? যা সত্যি তাই বলুন৷’

আরও পড়ুন: ‘সারদা নারদার কমরেডকে পাশে নিয়ে মিটিং করছেন,’ মোদীকে জবাব মমতার

মণাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারের সভায় এরপর হাত তালি পড়ল বটে৷ কিন্তু ততক্ষণে যেন তাল কেটে গিয়েছে৷ এযাবৎ কালে বেশ বেমানান এই ছবি৷

এদিন জলপাইগুড়িতে দু’টি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রথমে সভা করেন মণাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারে৷ সেই সভায় চাঁচাছোলা ভাষায় মোদী সরকার ও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ চা ওয়ালা থেকে এয়ার স্ট্রাইক৷ সব নিয়েই সরব ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷

প্রচারে বিজেপির মোদী সরকারকে মিথ্যেবাদীর সরকার বলে কটাক্ষ করেন মমতা৷ বলেন, বিগত পাঁচ বছরে যা প্রতিশ্রুতিই বিজেপি সরকার দিয়েছে তা বাস্তবায়িত করেনি৷ এদের কাজ শুধু বড় বড় কথা বলা৷ চাকরির প্রতিশ্রুতি ভুয়ো৷ উলটে গত ৪৫ বছরে বেকারত্বের হার সব চেয়ে বেশি মোদী জমানায়৷ নিন্দার মুখর দিদি৷ প্রশ্ন তোলেন কালো টাকা নিয়েও৷

কেন্দ্রের বিরোধীতার সঙ্গেই বাংলার উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি৷ এই সবের মাঝেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল নেত্রী জানতে চান, যা বলছি ঠিক বলছি তো? মোদীর দেওয়া কালো টাকা পেয়েছেন কেউ? সেই সময়ই উপস্থিত দর্শকরা আর জবাব দেননি৷ অস্বস্তি পরেন নেত্রী৷ সেই সময় তিনি বলেন, ‘‘ভয় পেয়েছেন নাকি? যা সত্যি তাই বলুন৷’’ যারপরনাই অসন্তুষ্ট মমতা৷

আরও পড়ুন: অসম্ভব’কে সম্ভব করার আরেক নাম মোদী

জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে সংগঠনে বেড়েছে গেরুয়া শিবির৷ এবার জলপাইগুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী বিজয়কৃষ্ণ বর্মণের বিরুদ্ধে বিজেপি শিবিরের প্রার্থী জয়ন্ত রায়৷ ভোট ঘিরে টানটান উত্তেজনা৷ এই পরিস্থিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে টানা বারো দিন উত্তরবঙ্গেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তীব্র বাক্যবাণে বিঁধছেন মোদীকে৷ কিন্তু মমতার প্রশ্নে দর্শকদের নীরবতা কী অন্যকিছুর ইঙ্গিত? ভোটের ফলাফলেই মিলবে উত্তর৷