কলকাতা: ইতিমধ্যে এনআরসি ইস্যুতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অসমের পরে এবার এনআরসি বাংলাতেও আগামিদিনে চালু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। এই অবস্থায় কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতে পথে নামতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মত আগামী বৃহস্পতিবার রাজপথে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। লোকসভা ভোটের পর সেভাবে এখনও পর্যন্ত বিজেপির বিরুদ্ধে পথে নামেননি দলনেত্রী। এবার এনআরসি ইস্যুতে সরাসরি বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে পথে নামতে চলেছেন মমতা।

অসমে ইতিমধ্যে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের নাম বাদ গয়েছে সেই তালিকা থেকে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ তৃণমূল নেত্রী। ইতিমধ্যে বিধানসভা এনআরসির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে অবিজেপি শক্তিশালী। বিরোধীতার রাস্তা ভুলে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস। এবার এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিকমহলের মতে, সবসময়ই বিজেপির বিরোধীতা করে এসেছেন।

লোকসভা ভোটের আগে একাধিকবার বহু ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। পথেও নেমেছেন। ফের একবার পথেই ফিরছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে তিনি জানিয়েছেন, বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষ থেকেই বিজেপি এ রাজ্যেও এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে। ধর্মের বিভাজনই এনআরসি’র প্রধান উদ্দেশ্য। কোনও মতেই বাংলায় এই বিভাজন করতে দেবেন না। রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে, আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে তাঁর সংঘাতকে তীব্রতর করতে চান মমতা।

উত্তর কলকাতার চিড়িয়ামোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে রাজ্যের নানা প্রান্তে এনআরসি’র বিরুদ্ধে মিছিল করছে তৃণমূল। দলের শহিদ দিবসের কর্মসূচির পরপরই ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ শুরু করেছে তৃণমূল। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের পথে নামতে দেখা যায়নি। সেই অর্থে লোকসভা ভোটের পর আগামী বৃহস্পতিবারই সরাসরি গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল।