স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করতে দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলিকে একমঞ্চে আনার অঙ্গীকার করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আগামী ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের সেই ‘ঐক্য মঞ্চেই’ গেরুয়া শিবিরকে তুলোধনা করার ছক কষে ফেলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো৷ আর সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি৷

ময়দানের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সেজে উঠছে বিজেপিকে বধ করার সেই ‘এক্য মঞ্চ’৷ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ব্রিগেড সমাবেশ৷ মমতার সাফ কথা, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও খামতি নয়৷ আর দলনেত্রীর ‘মাস্টার প্ল্যানকে’ সফল মাঠে নেমে কাজ করছেন মমতার সৈনিকরাও৷

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেডে মোট ৫টি স্তরে মঞ্চ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ প্রথম অর্থাৎ মূল মঞ্চে থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবং মমতার সঙ্গে থাকবেন অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা৷ মূল মঞ্চকে ঘিরে দুপাশে তৈরি হচ্ছে আরও দুটি করে মোট চারটি মঞ্চ৷ মূল মঞ্চের পাশের মঞ্চের একটি দলের সাংসদ, বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ৷ একটি মন্ত্রীদের জন্য৷ আর একটি মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে, অন্যটিতে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব থেকে আঞ্চলিক ও ব্লক স্তরের নেতা-নেত্রীরা জায়গা পাবেন৷ যার যার পদ অনুয়ায়ী প্রত্যেকের জন্য ওইদিন স্পেশাল আই কার্ডের ব্যবস্থা থাকছে৷ ৫টি মঞ্চের জন্য ৫টি আলাদা গেট থাকছে৷ ওই কার্ড দেখিয়েই নিশ্চিত করা হবে কার কোন মঞ্চে জায়গা এবং সেই নির্দিষ্ট গেট দিয়েই ঢুকতে হবে নেতাদের৷

শুধু তাই নয়, ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেডের জন্য ময়দানে একটি ভিভিআইপি রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে৷ যে রাস্তা শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্য রাজ্যের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্যই চিহ্নিত৷ এমনকি অন্য রাজ্য থেকে যারা আসবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৬ জানুয়ারি নবান্নে একটি মিটিং করবে রাজ্য প্রশাসন৷ ভিভিআইপিদের সিকিউরিটির বিষয়টি দেখে সেই মিটিং-এই ঠিক করা হবে কিভাবে মঞ্চে তোলা হবে তাদের৷ কারণ কেউ পান জেড ক্যাটাগরির সিকিউরিটি, কেউবা জেডপ্লাস৷ সেক্ষেত্রে কোন কোন ভিভিআিপিদের সিকিউরিটি মঞ্চে জায়গা পাবে দেখা হবে সে বিষয়টিও৷

মোট ১৫টি ভাগে ভাগ করে কাজ করবে প্রশাসন থেকে দায়িত্বে থাকা দলের নেতারা৷ শীর্ষ নেতৃত্বের কথা অনুযায়ী, অত ভিড়ের মধ্যে কোনও কর্মী যদি অসুস্থ হয়ে সেই অবস্থায় তাকে উদ্ধার করার জন্য থাকছ বিশেষ ব্যবস্থা৷ প্রত্যেকটি ব্লকে থাকবে চ্যানেল, এই চ্যানেলের মাধ্যমেই কারর অসুবিধা হলে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে৷ এছাড়াও এই ব্রিগেডে ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কর্মী কাজ করবেন ব্রিগেডে অংশ নিতে আসা মানুষের সাহায্যার্থে৷ শৃঙ্খলার বিষয়টিও দেখবেন এই স্বেচ্ছাসেবকরাই৷ এমনকী ব্রিগে়ড শেষের পরও দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না দায়িত্বে থাকা দলের নেতা-কর্মীদের৷ ব্রিগেডে আসা সকল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা যতক্ষণ না নিজ স্থানে পৌছোয়, ততক্ষণ রাস্তায় থেকে তদারকি করতে হবে তাদের৷ জেলাসভাপতি থেকে জেলার পর্যবেক্ষক সকলের ওপরই এই দায়িত্ব বর্তাবে বলেই তৃণমূলের অন্দরের খবর৷