স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার “আমার গর্ব মমতা” নামের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রয়াত মা গায়েত্রী দেবীর একটি কার্টুন পোস্ট করা হয়। সেই কার্টুনের কাল্পনিক বার্তালাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অটলবিহারী বাজপেয়ীকে বলছেন, “অটল দা আমি কৃতজ্ঞ যে, আপনি আমাদের বাড়িতে এসেছেন।” উত্তরে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি বলছেন মায়ের হাতে তৈরি মালপোয়া কি না খেয়ে থাকা যায়…?”

পোস্টটির সঙ্গে লেখা হয়েছে, “২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী কালীঘাটে মমতা দিদির আধা পাকা বাড়িতে যান তাঁর মা গায়ত্রী দেবীর সাথে দেখা করতে। এতোটাই ছিল বিজেপি-র সর্বোচ্চ নেতা এবং দিদির মধ্যে ভালোবাসা, যা এখনকার নেতাদের কিছু কথার মাধ্যমে কলংকিত করা না।”

বাজপেয়ি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা। মমতাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন বাজপেয়ি। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অটলবিহারী বাজপেয়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে আসেন৷ শুধু আসেন নি, মমতার মা গায়ত্রীদেবীর হাতে তৈরি মালপোয়া খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।‌ যা সেই সময় সংবাদের শিরোনামে উঠেছিল। কার্টুনটিতে ওই মুহূর্তের বেশকিছু কাল্পনিক সংলাপ দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এটা নিছকই কার্টুনের মাধ্যমে অটলজিকে মমতার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন নয়৷ এর মাধ্যমে তিনি বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বকে বার্তা দিলেন তাঁদের নেতার সঙ্গে তাঁর কতটা সুসম্পর্ক ছিল৷

মমতা এদিন ট্যুইট করে বাজপেয়িকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নীতি-আদর্শের প্রশংসা করেছেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই কাশ্মীর ইস্যুতে নাম না করে মোদি সরকারকে খোঁচাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্যুইটে মমতা লিখেছেন, ‘বন্দুকের নলে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে তিনি বিশ্বাস করতেন না। মূলত তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে কাশ্মীর-নীতি ঠিক করেছিলেন বাজপেয়িজি। এক, মানবিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। দুই, গণতন্ত্রকে সম্মান করা। তিন, কাশ্মীরের ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া। এই তিন নীতি নিয়েই কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।’