স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পরিযায়ী শ্রমিকদের ভাড়া বাবদ রেলকে ২৫ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য। বুধবার নবান্নে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন রাজ্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক, তীর্যযাত্রী, পড়ুয়া, পর্যটক এবং অন্যদের বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে লকডাউনের মাঝেই ‘শ্রমিক স্পেশাল’ ট্রেন চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মে মাসের মাঝামাঝি রেলকে চিঠি লিখে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানান, এরাজ্যের শ্রমিকদের রেলের ভাড়া সরকারের পক্ষ থেকেই বহন করা হবে। শ্রমিকদের থেকে রেলের তরফে যেন কোনও টাকা না চাওয়া হয়। মমতা এদিন বলেছেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যের সাড়ে ৮ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য শুধু বাংলাই ভাড়া দিয়েছে।রেলকে ২৫ কোটি টাকা দেওয়া ছাড়াও শ্রমিকদের বাসে, ট্রেনে আনতে গিয়ে ১১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে মমতা জানিয়েছেন।

পাশাপাশি,পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়ারেন্টিনের জন্য রোজ ৩ কোটি করে খরচ হচ্ছে। কেন্দ্রকে তোপ দেগে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লকডাউনের আগে শ্রমিকদের ফেরালে এই দুর্ভোগ হত না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে কোনও সাহায্য যায়নি।” তিনি এদিন জেলাশাসক ও এসডিও-বিডিওদের নির্দেশ দিয়েছেন, সব পরিযায়ীদের তালিকা তৈরি করতে। তাদের কুটির ও ক্ষুদ্রশিল্পের কাজে লাগানো হবে। প্রয়োজনে ১০০ দিনের কাজে তাঁদের শ্রম ব্যবহার করা হবে বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কদিন আগেই শ্রমিকদের ফেরানোর প্রশ্নে রাজ্য অনীহা দেখাচ্ছে বলে সরব হয়েছিলেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, বিজেপির দিলীপ ঘোষেরা। মমতাকে চিঠি লিখে একই কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার উল্টে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে একটি টুইট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে তিনি লেখেন, “ইচ্ছে থাকলেও রাজ্যের সংগতি নেই। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র পাশে দাঁড়ালে পরিযায়ী শ্রমিকরা উপকৃত হবেন।” PM CARES থেকে পরিযায়ী ও অসংগঠিত শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা করে পাঠানোর আরজিও জানান তিনি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।