স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের ফল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দলের শুদ্ধিকরণে নজর দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার বৈঠকে কাউন্সিলরদের বুঝিয়ে দিলেন- অনেক হয়েছে, আর নয়৷ কঠোরভাবে এদিন কাউন্সিলরদের নেত্রী নির্দেশ দেন, যারা টাকা নিয়েছ তারা ফিরিয়ে দাও।

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসারে যে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে অনেকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে সে খবর পৌঁছেছিল। কিন্তু এতদিন তিনি সেটা স্বীকার করতেন না৷ যেটা এদিন করলেন৷মঙ্গলবার প্রায় তিন হাজার দলীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে নজরুল মঞ্চে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিজেপি-র সমালোচনা করলেও দলের কিছু কাউন্সিলরের ভূমিকাতেই যে তিনি খুশি নন, তা এ দিন প্রকাশ্য সভাতেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২০- তে রাজ্যে পুরসভা নির্বাচন। সেকথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, অনেকেই যে কোনও সরকারি কাজে ২৫ শতাংশ করে নেয় সে খবর তাঁর কাছে আছে। এমন কি ‘সবার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় গরীব মানুষকে সুবিধা করে দেওয়ার নাম করেও অনেকে টাকা তুলেছে। এবার তাদের সবাইকে টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে।

তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, কারও অধিকার নেই সরকারি কাজের বা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা নেওয়ার। মমতা বলেন, কন্যাশ্রী থেকে সবুজসাথী সব প্রকল্প থেকেই অনেকে কাটমানি খাচ্ছে। এমনকী শব সৎকারের সমব্যথী প্রকল্পের ২০০০ টাকা থেকেও ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে অনেকে।দলত্যাগী নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে মমতার অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে অনেকেই বিজেপি-তে যাচ্ছেন। দলের মধ্যে বাকি যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা কেউ দুর্নীতি করলেও যে তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন৷

এখন প্রায় প্রতিদিনই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যাওয়ার হিড়িক বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পঞ্চায়েত, পুরসভা তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বেশ কয়েকজন বিধায়ক শিবির বদল করে ফেলেছেন। নেত্রী এ দিন বলেন, “যাঁরা যাওয়ার, তাড়াতাড়ি চলে যান। একজন গেলে আমি ৫০০ জন তৈরি করব। তবু চোরেদের দলে রাখব না।তবে যাঁরা চলে যাবেন তাঁরা পায়ে ধরে ফেরত আসতে চাইলেও যেন দলে নেওয়া না হয়।”তবে দলের পুরনো কর্মী বা নেতারা ফিরতে চাইলে তাঁদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

আগামী পুর নির্বাচনে আর জেলার নেতাদের সুপারিশে কোনও টিকিট দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মমতা৷এব্যাপারে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।