স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে মিডিয়ার সামনে দলের কোনও নেতা মুখ খুলতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে বর্ধিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের বিধায়ক ও সাংসদদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী বলেছেন, রায় নিয়ে তিনি যা বলার বলবেন।

আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তার আগে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় শোনাবেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দলীয় বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‘রায় কী হবে না হবে, জানি না। কিন্তু রায় বেরোলে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয়, সে জন্য দলের সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছি। শান্তি বজায় রাখতে বলেছি। আর সংবাদমাধ্যমকে এ বিষয়ে যা বলার, তা শুধু আমি বলব। আর কেউ বলবেন না। দলের সকলকে তা জানিয়ে দিয়েছি।’’

এদিন দলের বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের সামনে নেতাদের আলটপকা মন্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। ভর্ৎসনার করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। তাঁর উদ্দেশে বলতে গিয়েই সবাইকে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের সামনে এত কথা বলার কী আছে!” তারপরই অযোধ্যা প্রসঙ্গ টানেন তিনি। স্পষ্ট বলে দেন কেউ যেন কিছু না বলেন।

এদিকে, ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, রায় যাই হোক না কেন, শান্তি যেন বজায় থাকে। অযোধ্যায় আজ থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে ১২ হাজার পুলিশ।

এরাজ্যের প্রশাসনও সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলার রায়ের পর আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয়, তার জন্য রাজ্য পুলিশকে নজরদারি চালিয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, সংবেদশীল এলাকাগুলিতে শান্তিরক্ষা কমিটিগুলিকে সক্রিয় করে তোলার কথাও বলা হয়েছে। নজর রাখতে বলা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই সময়ে তাঁর কর্মসূচিও রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শদাবাদে প্রশাসনিক বৈঠকের সূচি করা রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি কী হয় তা দেখে নিয়েই ওই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে যাবেন কিনা তা ঠিক করবেন।