কলকাতা: কৃষ্ণনগর গভর্মেন্ট কলেজের কর্মীসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের উদ্দেশ্য বলেন, নাকা চেকিং আরও বাড়াতে হবে৷

এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে গাড়ি নিয়ে অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রেস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ সে কিন্তু প্রেসের লোক নয়৷ পুলিশকে নাকা চেকিং বাড়াতে হবে৷ বন্দুক নিয়ে চলে যাচ্ছে৷

লাল আলো লাগিয়ে গাঁজা নিয়ে চলে যাচ্ছে৷ একটা বন্দুক নিয়ে চলে যাচ্ছে লাল আলো জ্বালিয়ে৷ কোথাও প্রেস লাগাচ্ছে,কোথাও আবার আইএএস লাগাচ্ছে, কোথাও আইপিএস লাগাচ্ছে৷ আবার সেন্ট্রাল বা স্টেট গভর্মেন্ট লেখা গাড়ি নিয়ে অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ এই সব চলছে৷

এছাড়া তিনি আরও বলেন, এই তো কোনও একজন কৃষ্ণনগরে আমাদের নাম করে দলের লোককে ফোন করে বলছে ,কাজটা করে দিতে হবে৷ আমার কাছে খবর এল, আমি সঙ্গে সঙ্গে ক্রস চেক করলাম৷ দেখি আরে, এ তো জেল থেকে ফোন করছে৷

এর পাশাপাশি সিএএ,এনআরসির ও এনপিআর নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান৷ বলেন এনআরসির প্রথম ধাপ হল এনপিআর৷ সেই এনপিআর আমি রাজ্যে করতে দেইনি৷ কিন্তু সিপিএম কংগ্রেস এর কিছু লোক আছে রাজ্য সরকারের কর্মী৷ তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নাম করে আপনার বাড়ি গিয়ে যদি বলে আমি রাজ্য সরকারে কর্মী, আপনার কাগজ দেখান, আমি বলছি দেখাবেন না৷

গতকাল রানাঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কেউ যদি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করে কিছু বলবেন না ,কাগজ দেখাবেন না৷ যদি বলে আধার কার্ডটা জমা দিয়ে আসবেন,দেবেন না৷ যদি বলে আপনার বাড়ির কে কে আছে বলুন,বলবেন না৷ কিছু জমা রাখতে বললে,রাখবেন না৷ দাঙ্গাবাজ বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না৷

এমনকি আমার ছবি দেখালেও শোনবেন না, আমি যখন সরাসরি বলব,আপনারা আমার গলা চেনেন,আমাকে চেনেন৷ তখন বিশ্বাস করবেন৷ বিজেপিকে ভোট দিলেন, কি পেলেন? বিজেপি ভোট নিল, অধিকার কেড়ে নিল, এনপিআর চাপিয়ে দিল, রেল- ব্যাঙ্ক- বিএসএনএল-এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করে দিল৷

বিজেপির পাশাপাশি সেদিন সিপিএম- কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তোপ তেগেছিল মমতা৷ বনগাঁয় বলেন, সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে সিপিএম- কংগ্রেস৷ ঘোলা জলে মাছ ধরছে সিপিএম- কংগ্রেস আসলে এরা সব জগাই-মাধাই-গদাই৷ সকালে সিপিএম,দুপুরে কংগ্রেস আর রাতে বিজেপি৷ কাউকে বিশ্বাস করবেন না৷

তিনি আরও বলেন, আমি জগাই মাধাইদের মত নই৷ আমি ভোট চাইতে আসিনি৷ আমরা ভোটের সময় চৌকিদার বলি না৷ মানুষের বিপদে থাকি।ভোটের জন্য অনেকে মিথ্যা কথা বলে৷ অনেকে গন্ডগোল পাকান, আমি সেই দলে নেই৷